চট্টগ্রামসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর অবকাঠামো বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ১২ দলীয় জোট। বুধবার (১৯ নভেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে জোটের শীর্ষ নেতারা বলেন, “অস্বাভাবিক দ্রুততায় বিদেশি কোম্পানির কাছে কনটেইনার টার্মিনাল হস্তান্তর দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতির ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে এবং এটি জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থি সিদ্ধান্ত।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বন্দর পরিচালনার মতো কৌশলগত খাত বিদেশিদের হাতে গেলে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সরাসরি হুমকির মুখে পড়বে। “এ ধরনের সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে দেশের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়াবে,” মন্তব্য করেন তারা।
জোটের নেতারা অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী কোনো দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রাখে না। “বিগত স্বৈরাচারী ক্ষমতাসীনরা দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে যেভাবে দেশকে পরনির্ভরতার দিকে নিয়ে গিয়েছিল, বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডও সেই অতীতকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে,” বলেন তারা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বন্দর ও টার্মিনালের মতো সংবেদনশীল খাত বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িত। “জনমত ও জাতীয় আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে নেয়া যেকোনো সিদ্ধান্ত জনরোষকে তীব্র করবে, যা দেশের স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করবে,” উল্লেখ করেন নেতারা।
১২ দলীয় জোট সতর্ক করে জানায়—দেশবিরোধী এই চুক্তি বাতিল না করলে তারা দেশের আপামর জনগণকে নিয়ে দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে তুলবে। “দেশ বিক্রির চক্রান্ত কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না,” হুঁশিয়ারি দেন জোট নেতারা।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন জোট প্রধান মোস্তফা জামাল হায়দার, মুখপাত্র শাহাদাত হোসেন সেলিম, সমন্বয়ক সৈয়দ এহসানুল হুদা সহ জোটভুক্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা।