শেকৃবি প্রতিনিধি
রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) ‘রিজেনারেটিভ এগ্রিকালচার: উৎপাদনশীলতা ও টেকসই উন্নয়ন’ শীর্ষক একটি গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কনফারেন্স কক্ষে দুই ঘণ্টাব্যাপী এ আলোচনায় নীতিনির্ধারক, গবেষক, কৃষিবিদ ও বিভিন্ন অংশীজন অংশ নেন। আলোচনা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম জোরদারে শেকৃবি ও বায়ার ক্রপ সায়েন্সের মধ্যে একটি এমওইউ স্বাক্ষরিত হয়।
মঙ্গলবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত এ আলোচনা সভা ছিল বায়ার ক্রপ সায়েন্স এবং শেকৃবির কৃষি রসায়ন বিভাগের যৌথ উদ্যোগ। মূল লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশে পুনর্জননশীল কৃষি এবং কার্বন হ্রাসকারী চাষাবাদকে এগিয়ে নেওয়া।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কৃষি রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. তাজুল ইসলাম চৌধুরী এবং বায়ার ক্রপ সায়েন্সের রেজাউল করিম। প্রবন্ধে কৃষির উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। নীতিমালা প্রণয়ন, সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা, কৃষক সহায়তা, যুবদের কৃষিতে সম্পৃক্তকরণ এবং তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্তগ্রহণ—এই বিষয়গুলোকে আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বক্তারা জানান, জলবায়ু পরিবর্তন, মাটির উর্বরতা হ্রাস এবং পানিসঙ্কট এখন বাংলাদেশের কৃষির বড় চ্যালেঞ্জ। পুনর্জননশীল কৃষি এসব সংকট মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। আলোচনায় ধান চাষে নির্দিষ্ট বপন প্রযুক্তির মাধ্যমে ফলন বাড়িয়ে পরিবেশগত চাপ কমানো, ভুট্টাকে জৈবজ্বালানি ও পশুখাদ্যের উৎস হিসেবে ব্যবহার করে আমদানি নির্ভরতা হ্রাস, এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের কৃষিতে যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
এ ছাড়া পুনর্জননশীল কৃষি, ধান চাষে কার্বন নির্গমন কমানো, ভুট্টা উৎপাদন ও জৈবজ্বালানির সম্ভাবনা, কৃষকের ন্যায্যমূল্য, এবং তরুণ কৃষি উদ্যোক্তাদের প্রযুক্তিবান্ধব উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়।
সভায় অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফ, বায়ার ক্রপ সায়েন্সের এশিয়া প্যাসিফিক প্রধান মালু নাকরেইনার, ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহিদুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. বেলাল হোসেন, পোস্ট গ্রাজুয়েট স্টাডিজের ডিন অধ্যাপক ড. সালাউদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী, কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. এইচ এম এম তারিক হোসাইন, বাকৃবির শিক্ষক ড. আসাদুজ্জামানসহ কৃষি মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা। অংশগ্রহণকারীরা সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।