বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্মদিন আগামী ২০ নভেম্বর। দিনটি ঘিরে সাধারণত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও দলীয় পর্যায়ে নানা ধরনের আয়োজন দেখা গেলেও এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীর সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়—তারেক রহমানের জন্মদিনে কোনো ধরনের আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠান, কেক কাটা, পোস্টার–ব্যানার লাগানো, শোভাযাত্রা কিংবা আলোচনা সভা আয়োজন করা যাবে না।
বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, ঢাকা মহানগরসহ সারাদেশের সব ইউনিট, অঙ্গ, সহযোগী ও উপ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা এই নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলবেন। দলীয় অবস্থান হিসেবে জানানো হয়—বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এমন কোনো কর্মসূচি নেওয়া উচিত নয়, যা অযথা উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করে বা রাজনৈতিকভাবে ভুল বার্তা দেয়। বিএনপি চাইছে—তারেক রহমানের জন্মদিনটি যেন শান্ত, সংযমী ও সীমিতভাবে পালন করা হয়।
দলীয় সূত্র জানায়, দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি, আন্দোলন-সংগ্রাম এবং রাজনৈতিক চাপের এই সময়ে জন্মদিনকে কেন্দ্র করে অতিরঞ্জিত প্রকাশ বা বড় ধরনের আয়োজন স্বাভাবিক রাজনৈতিক কাজ থেকে মনোযোগ সরিয়ে দিতে পারে।
তাই দলীয় ভাবমূর্তি বজায় রাখতে এবং বর্তমান সংগ্রামকে গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নিতে জন্মদিনে সব ধরনের উৎসব নিষিদ্ধের পথই বেছে নিয়েছে বিএনপি।
রিজভীর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, “তারেক রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে কোনো প্রকার ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুন, গেট, আলোচনাসভা বা বিবিধ অনুষ্ঠান করা যাবে না। নেতাকর্মীদের অনুরোধ করা হচ্ছে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রেখে নির্দেশনাটি মেনে চলার জন্য।”
বিএনপির ঘনিষ্ঠ মহল মনে করছে—দলের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে চলমান মামলাজনিত চাপ, জাতীয় রাজনীতির অস্থিরতা এবং সাংগঠনিক পুনর্গঠনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জন্মদিন ঘিরে অতিরিক্ত উদযাপন দলকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে পারে। তাই জন্মদিনকে কেন্দ্র করে এই বছর দলীয় অবস্থান একেবারেই নীরব ও সাদামাটা।
এই নির্দেশনার মাধ্যমে বিএনপি স্পষ্ট করেছে—তারেক রহমানের জন্মদিন কোনো রাজনৈতিক উৎসব নয়, বরং দলীয় সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে এটি একটি সংযত ও সীমিত দিন হিসেবে পালন করা হবে।