রাজনৈতিক বিভাজন না বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন—দেশের বর্তমান দুই প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো আওয়ামী লীগ এবং ভারত। তার দাবি, বাংলাদেশের মানুষ এখন রাজনৈতিক প্রতিশোধ নয়, বরং বিচারিক সিদ্ধান্তের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন দেখতে আগ্রহী। সোমবার (১৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটর এলাকায় আয়োজিত এনসিপির গণমিছিলে যোগ দিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
মিছিলে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, রাজনৈতিক সংগ্রাম এখনো শেষ হয়নি। দেশের জনগণ দীর্ঘদিনের দুঃশাসন, নিপীড়ন এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চেয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছে—এটি জনগণের দাবি পূরণের একটি ধাপ মাত্র। তার ভাষায়, “লড়াই শেষ হবে তখনই, যখন শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেওয়া দণ্ড কার্যকর হবে। এই রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত জনগণের রাগ, ক্ষোভ এবং আন্দোলন থামবে না।”
ভারত সরকারের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, সম্প্রতি ঢাকায় আসা ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর দাবি জানানো হয়েছে। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মতে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিচারিক প্রক্রিয়ায় অন্য কোনো রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ কাম্য নয়। বরং ভারতের সামনে এখন সবচেয়ে বড় সুযোগ—বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশাকে সম্মান জানিয়ে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে দেশে ফেরত পাঠানো।
তিনি আরও জানান, এনসিপি তিনটি লক্ষ্য সামনে রেখে রাজনৈতিক কর্মকৌশল সাজিয়েছে—সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য সংসদে গিয়ে কাঙ্ক্ষিত কাঠামো সংস্কার করা। বিচারিক প্রক্রিয়া চলছে, আমরা চাই সেই বিচার যেন সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে শেষ হয়।”
গণমিছিলে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা স্লোগানে জানান, দেশের সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচারের প্রতিটি ধাপ দেখতে চায় এবং রায় কার্যকর হওয়াই এখন সময়ের দাবি। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যে এসব দাবির প্রতিধ্বনি আরও জোরালো হয়।