মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল আত্মসমর্পণ না করলে তাদের কোনো আইনি অধিকার থাকবে না বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) প্রধান কৌঁসুলি মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। সোমবার (১৭ নভেম্বর) রায় ঘোষণার পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, “আইন অনুযায়ী রায় ঘোষণার দিন থেকেই ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার সুযোগ আছে। কিন্তু কোনো পলাতক আসামি আপিল করতে পারবেন না। আপিল করতে হলে অবশ্যই দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করতে হবে। পৃথিবীর কোনো দেশেই পলাতক অবস্থায় আপিলের সুযোগ নেই।”
তিনি আরও জানান, শেখ হাসিনা ও কামাল যদি আইনকে সম্মান করে আত্মসমর্পণ করেন, তাহলেই তারা সুপ্রিম কোর্টে রায়ের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ পাবেন। সে ক্ষেত্রে আদালত তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনে যুক্তি ও প্রমাণ উপস্থাপনের সুযোগ দেবে এবং ৬০ দিনের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তি করা হবে।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, “ফেরার অবস্থায় কারো কোনো আইনি অধিকার থাকে না। তাই তারা আপিল করতে চাইলে কারাগারে গিয়ে আত্মসমর্পণ করতেই হবে। অন্যথায় রায় চূড়ান্ত হয়ে যাবে।”
গত বছরের জুলাই–আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করে। ওই মামলার তৃতীয় আসামি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী হওয়ায় মৃত্যুদণ্ড থেকে রেহাই পান এবং তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
তাজুল ইসলাম বলেন, “আইনের পথে চললে আদালত ন্যায়বিচারের সুযোগ দেবে। কিন্তু পালিয়ে থাকার কারণে তারা ইতোমধ্যেই নিজেদের আইনগত অধিকার হারাতে বসেছেন।”