ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেছেন, একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তে জাতি হতাশ হয়েছে। শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) দুপুরে চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন আয়োজিত চাঁদপুর-৩ আসনের নির্বাচনি প্রশিক্ষণ কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ৫৩ বছরের নির্বাচনি ইতিহাসে যেসব সরকার এককভাবে ক্ষমতায় এসেছে, তারা পরে ফ্যাসিস্ট চরিত্র ধারণ করেছে। “বিগত দিনের অভিজ্ঞতা তাই বলে। গণঅভ্যুত্থান ২০২৪–এর পর দেশে একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসেনি, তাই তাদের দায়িত্ব ছিল মৌলিক সংস্কার করা, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করা,” বলেন মুফতি রেজাউল করীম।
তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের তিনটি মূল দায়িত্ব থাকলেও একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের নির্বাচনে আগ্রহকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অথচ মৌলিক সংস্কার ও দৃশ্যমান বিচার—যা জনগণের প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দু—সে বিষয়ে ততটা উদ্যোগ দেখা যায়নি। তার মতে, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে আয়োজনের সিদ্ধান্ত শুধু বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবে না, বরং সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়েও সন্দেহ তৈরি করবে।
ইসলামী আন্দোলনের আমির বলেন, “দেশের মানুষ স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু এ ধরনের সিদ্ধান্ত জাতিকে হতাশ করেছে। গণভোট যেন জনগণের মৌলিক চাহিদা ও রাজনৈতিক ভবিষ্যতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। তাই জাতীয় নির্বাচনের আগে আলাদাভাবে গণভোট আয়োজন করা দরকার ছিল।”
কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন দলটির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী শেখ জয়নাল আবেদীনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। মুফতি রেজাউল করীম বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি ন্যায়ভিত্তিক ও সুশাসনের পরিবেশ গড়ে তুলতে হলে গণভোট ও নির্বাচন—দুটোকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে হবে।