বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন,
“জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি দিতে হলে জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজন ছাড়া বিকল্প নেই। একই দিনে জাতীয় ভোট ও গণভোট আয়োজন জনগণকে বিভ্রান্ত করার সামিল।”
শুক্রবার সন্ধ্যায় খুলনা–৩ আসনের দৌলতপুর থানাধীন শহীদ মিনার চত্বরে দৌলতপুর থানা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন,
“জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট না দিলে জাতিকে গভীর সংকটে ফেলে দেওয়া হবে। প্রধান উপদেষ্টার ভাষণের সংশোধন এনে এখনো এই ভুল সংশোধনের সুযোগ রয়েছে।” তিনি একই দিনে দুটি ভোটের সিদ্ধান্তকে “অযৌক্তিক” এবং “জনবিরোধী” বলে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, “একই দিনে গণভোট আর জাতীয় নির্বাচন দেওয়ায় জনগণকে সংকটে ফেলে দেওয়া হয়েছে, ঘোষণা সংশোধন করে জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট দিন, জনগণের মতামতই হবে সরকারের ভিত্তি।”
তিনি আরও বলেন, “আগামী ২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের আইনি কোনো ভিত্তি নেই। সংবিধানে প্রতি পাঁচ বছর অন্তর অন্তর নির্বাচন হওয়ার কথা আছে। সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছে ২০২৪ সালে। সংবিধানের অনেক ধারা এবং অনেক অনুচ্ছেদ অকার্যকর হয়ে পড়েছে। সেখানে প্রধান উপদেষ্টা কিভাবে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হয়েছেন তাও সংবিধানে নেই। বাংলাদেশের সংবিধানের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কোনো বিধান নেই। সুপ্রিম কোর্টের একটি রেফারেন্সের ভিত্তিতে এই সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করেছেন। কিন্তু এই রেফারেন্স কখনো ক্ষমতাগ্রহণের ভিত্তি হতে পারে না। সেই কারণে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার যেমন সংবিধানে নেই, নির্বাচনের মেয়াদ সংবিধানে নেই, প্রধান উপদেষ্টা সংবিধানে নেই। সুতরাং জুলাই সনদই একমাত্র সংবিধানের অংশ হতে পারে এবং এর মাধ্যমেই সবকিছুর আইনি ভিত্তি দেওয়া সম্ভব।”
জুলাই সনদ মানতে না চাওয়া রাজনৈতিক শক্তিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন,
“যারা জুলাই সনদ মানতে চায় না, তাদের জন্য ২৬-এর জাতীয় নির্বাচন নয়। জনগণকে ধোঁকার মধ্যে রাখা যাবে না। গণভোটের আগে জাতীয় নির্বাচন দেওয়া মানেই জুলাই সনদের বৈধতা এড়িয়ে যাওয়া।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন,
“একটি বড় রাজনৈতিক দল নাকি সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টার সাথে গোপন বৈঠক করে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।”
এ বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন,
“নির্বাচনের দাবি ও আন্দোলন—দুটোই একসাথে চলবে। গণভোট ছাড়া নির্বাচন হলে গণতন্ত্রের জন্য তা বড় হুমকি হবে।”
সেক্রেটারি জেনারেল আরও জানান, আগামী ১৬ নভেম্বর দেশের আটটি ইসলামী রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা বৈঠকে বসবেন এবং সেখানে পরবর্তী করণীয় ও সম্ভাব্য আন্দোলনের রূপরেখা নির্ধারণ হবে। তিনি বলেন, “যে সিদ্ধান্তই আসুক, সবাইকে সেই সিদ্ধান্তের আলোকে আন্দোলনে যুক্ত হতে হবে।”