হাবিবুর রহমান সাগর ,জাবি প্রতিনিধি
একসময় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারকে শিক্ষার্থীরা মজা করে ডাকত “নাপা সেন্টার” নামে-কারণ প্রায় সব রোগেরই প্রেসক্রিপশন শেষ হতো এক ট্যাবলেট ‘নাপা’ দিয়ে। তবে সেই একমাত্র ঔষধনির্ভর মেডিকেল সেন্টার এখন যেন বদলে যাচ্ছে এক বহুমাত্রিক স্বাস্থ্যসেবায়।
দীর্ঘদিনের স্থবিরতা ভেঙে এবার নতুন উদ্যোগে এগিয়ে এসেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। জানা গেছে, মেডিকেল সেন্টারের বার্ষিক ঔষধ ক্রয় বাজেট ২৪ লক্ষ টাকা, যা চার ধাপে (প্রতি ধাপে ৬ লক্ষ টাকা) ব্যয় করা হয়। পূর্বে এই বাজেটের দায়িত্ব ছিল এককভাবে CMO বা চিফ মেডিকেল অফিসারের হাতে, ফলে ওষুধ কেনা সীমাবদ্ধ ছিল মাত্র ২০-৩০ ধরনের মধ্যে।
কিন্তু সম্প্রতি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. সোহেল আহমেদ-এর নেতৃত্বে একটি নতুন ঔষধ ক্রয় কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির ধারাবাহিক বৈঠক ও সিদ্ধান্তের ফলে মেডিকেল সেন্টার ধীরে ধীরে ‘নাপা সেন্টার’ তকমা থেকে বেরিয়ে আসছে।
কমিটির আলোচনায় গুণগতমানসম্পন্ন কোম্পানির ওষুধ, আধুনিক অ্যান্টিবায়োটিক, ইনজেকশন, রেসপিরেটরি মেডিসিন, ডায়রিয়া প্রতিরোধী স্যালাইনসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরির ওষুধ অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ফলাফল চমকপ্রদ-আগে যেখানে ২০-৩০ ধরনের ওষুধ কেনা হতো, এখন একই বাজেটে কেনা হয়েছে ৮৫ ধরনের ওষুধ।
প্রথম ধাপে বরাদ্দ ৬ লক্ষ টাকার মধ্যে ইতোমধ্যে ৪ লক্ষ ২১ হাজার টাকার ওষুধ ক্রয় সম্পন্ন হয়েছে, যার সংখ্যা ৫৩ প্রকার। বাকি ১ লক্ষ ৬৯ হাজার টাকার ৩২ প্রকার ওষুধ খুব শিগগিরই সংগ্রহ করা হবে।
প্রথম ধাপে সংগৃহীত ওষুধের কিছু বিভাগ- অ্যান্টিবায়োটিক: ১১ প্রকার যেমন
সিপ্রোফ্লক্সাসিন, লেভোফ্লক্সাসিন, এমোক্সিসিলিন, ডক্সিসাইক্লিন, এজিথ্রোমাইসিন, সেফিউরোক্সিম,
মক্সিফ্লক্সাসিন প্রভৃতি। ব্যথানাশক: ৯ প্রকার- ঠান্ডা, কাশি ও শ্বাসযন্ত্রের ওষুধ: ৬ প্রকার (এর মধ্যে ফেক্সো ও মন্টিলুকাস্টও রয়েছে)।স্টেরয়েড: ৩ প্রকার,
গ্যাস্ট্রিক ও বমি প্রতিরোধক: ৫ প্রকার,
IV ফ্লুইড/স্যালাইন: ৪ প্রকার DNS, Normal
Saline ইত্যাদি,খিঁচুনি প্রতিরোধক: ৩ প্রকার,মানসিক রোগের ওষুধ: ২ প্রকার,অ্যান্টিইমেটিক: ৩ প্রকার,
ভ্যাকসিন: ২ প্রকার টিটেনাস ও র্যাবিস, যা ছিল বহুদিনের দাবি,
এছাড়াও এখন পাওয়া যাচ্ছে ORS, ইনহেলার, নেবুলাইজার সলিউশন, কৃমিনাশক, অ্যান্টিসেপটিক, মাল্টিভিটামিন, অ্যান্টিফাঙ্গালসহ আরও নানান প্রয়োজনীয় মেডিসিন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো-উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর সোহেল আহমেদের উদ্যোগে JMI Syringes and Medical Devices Ltd. কোম্পানির নির্বাহী পরিচালক সদয় হয়ে মেডিকেল সেন্টারকে উপহার দিয়েছেন-
২০০০ পিস ৩ml সিরিঞ্জ,১০০০ পিস ৫ml সিরিঞ্জ,২৮০ পিস IV সেট
এই অগ্রগতি যেমন প্রশংসনীয়, তেমনি জন্ম দিচ্ছে এক নতুন প্রশ্নও-এতদিন এত কম ওষুধ কেনা হলো কেন? বাজেট থাকলেও তা সঠিকভাবে ব্যবহার হয়নি কেন? অতীতের সেই ঔষধ ক্রয়ে অনিয়ম বা দুর্নীতির দায় কার, তা খতিয়ে দেখার দাবি এখন শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের মুখে।
তবুও, বহুদিন পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার যেন নতুন প্রাণ ফিরে পাচ্ছে-একটি ‘নাপা সেন্টার’ থেকে সত্যিকারের স্বাস্থ্যকেন্দ্রের রূপে।