আমজনতার দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান বলেছেন, জামায়াতের হাতে আওয়ামী লীগের বিচার তিনি চান না; দেশকে তারা স্বেচ্ছায় ভুল পথে নিয়ে যাচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে ব্যক্ত করেছেন যে জামায়াত ভোটাধিকার ও জাতীয় ইস্যু নিয়েও বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তারেক বলেন, জামায়াত বিদেশি কূটনৈতিকদের সঙ্গে নিয়মিত মিটিং করছে এবং তাদের পছন্দমতো ব্যবস্থা না হলে তারা ভোট বাধাগ্রস্ত করে দেশের অবস্থা অস্থিতিশীল করে দেবে। তিনি উল্লেখ করেন, জামায়াতের কিছু অংশ ইতিমধ্যেই হিন্দুস্তান ও লাহোরের সঙ্গে সক্রিয় আছে।
তার বক্তব্যে যে দৃষ্টান্তগুলো তুলে ধরা হয়েছে, সেগুলোকে তিনি গভীরভাবে সমস্যা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি উদাহরণ দিয়েছেন—কিছু লোক জোর করে বলতে চাইছে, ‘রাজাকার’ শব্দটি এখন সম্মানের প্রতীক হিসেবে গৃহীত হচ্ছে; এমনই ভয়াবহ কল্পনা ও প্রলোভনে জামায়াত লিপ্ত। তারেক বলেন, ২৪ সালের প্রেক্ষাপটে কিছু লোক দাবি করছে ৭১ সালের বর্ণনা আর প্রাসঙ্গিক নয়; স্বাধীনতার স্মৃতিকে খাটো করার এই চেষ্টাকে তিনি নিন্দনীয় বলে অভিহিত করেছেন।
তারেক রহমান আরও অভিযোগ করেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাসে আগুন লাগার ঘটনাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে—কেউ হয়তো ক্ষমতা ফিরে পেতে প্রতিবাদস্বরূপ অগ্নিকাণ্ড ঘটাচ্ছে, আবার কেউ পার্পাট করে আওয়ামী লীগকে সন্ত্রাসী হিসেবে উপস্থাপন করতে এই ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারে। তিনি বলেন, সমস্যার মূলে থাকা দলীয় স্বার্থ ও অপশক্তিকে পর্যায়ক্রমে আলোকপাত করে রাজনৈতিক চর্চাকে সামাজিক বন্ধনে গড়ে তোলা জরুরি।
তারেকের ভাষায়, রাজনৈতিক জীবন একটি সামাজিক চুক্তি; এতে পরাজিতকেও স্বস্তি ও স্থান দেওয়া জরুরি। অপরাধীদের বিচারের নামেই নির্ঘাত সবকিছুকে বাদ দিয়ে নির্দোষের রাজনৈতিক স্বীকৃতি কেড়ে নেওয়া হলে সমাজ সুস্থ হবে না। তিনি পরিষ্কার করে বলেন, যদি তাকে বলা হয় জামায়াত ও আওয়ামী লীগ কোনটাকে পছন্দ করবেন, তবে জামায়াতকে তিনি সাংঘাতিক অপরাধী হিসেবে উল্লেখ করেছেন—কারণ জামায়াত স্বাধীনতা-বিরোধী প্রচেষ্টা চালিয়েছে; তিনি মন্তব্য করেন, ‘জামায়াত হাজার গুণে অপরাধী’ এবং ‘লাহোরের হেড কোয়ার্টার জামায়াত’—এই ইতিহাস ও নীতিকেই তিনি দেশে বিপদসঙ্কেত হিসেবে দেখছেন।
অবশেষে, তিনি জানান, ২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের বিচার দাবি করছেন; কিন্তু সেই বিচারে যদি আসামিপক্ষে আইনজীবীরা জামায়াতের হয়ে বিচার পরিচালনা করে এবং রাষ্ট্রপক্ষও জামায়াত-সংযুক্ত হয়, তাহলে সেই বিচারকে তিনি ‘ভুয়া’ হিসেবে বর্ণনা করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাবেন। তারেক স্পষ্টভাবেই বলেছেন—‘জামায়াতের হাতে আওয়ামী লীগের বিচার আমি চাই না’। আর যদি সাংবাদিক পান্না ভাইকে কথা বলার কারণে কারাগারে পাঠানো হয়, তাহলে তিনি বলেন, জামায়াতের তিন প্রজন্ম জেলভোগী হতে বাধ্য হবে—এমন উদ্বেগ ও হুঁশিয়ারি তিনি ব্যক্ত করে বিতর্কিত দাবি-প্রকাশ করেছেন।
টুকিটাকি নয়—রাজনৈতিক অস্থিরতার আলোকে তারেকের তীব্র আবেদন ও হুঁশিয়ারি দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন তুমুল প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত দেয়।