বৃহস্পতিবার সকালে ঠাকুরগাঁওয়ের মোহাম্মদপুর শাপলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত জনসভায় প্রকাশিত এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি বিতর্ক ও মিসইনফরমেশন নিয়েই বুধবার সন্ধ্যায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষ থেকে একটি ব্যাখ্যামূলক বিবৃতি জারি করা হয়েছে।
বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক ব্যবহারে উক্ত এলাকায় যদি হয়রানিমূলক মামলা করা হয়, সেগুলো তুলে নেওয়ার কথাই বলা হয়েছিল—কিন্তু দেশব্যাপী সব মামলা তুলে নেওয়ার মতো কোনো বক্তব্য প্রদান করা হয়নি এবং এমন অপপ্রচারের বিরুদ্ধে পাঠক ও দলের কর্মীদের বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিবৃতির একটি অংশ বিবর্ধিত কাগজে প্রকাশিত বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা চিহ্নিত করে সরাসরি উদ্ধৃতিসহ তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে:
‘এক ‘আজ ১১ নভেম্বর ২০২৫, বিকেলে ঠাকুরগাঁও জেলাধীন সদর উপজেলার মোহাম্মদপুর শাপলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এক মতবিনিময় সভায় দেয়া আমার একটি বক্তব্যকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে-যা অত্যন্ত দুঃখজনক।’
বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল আরও বলেন যে, তার বক্তব্য সম্পূর্ণভাবে ক্ষুব্ধভাবে বা প্রতিশোধমূলক রাজনীতি প্রচারের উদ্দেশ্যে বলা হয়নি। তিনি স্পষ্ট করে উল্লেখ করেছেন,
‘‘আমি আমার বক্তব্যে বলেছি যে, আমরা প্রতিশোধের রাজনীতি করতে চাই না। আওয়ামী লীগের মতো হয়রানিমূলক মামলা করতে চাই না। আমি আমার দেয়া বক্তব্যে আরো বলেছি যে, এই ইউনিয়নে হয়রানিমূলক কোন মামলা হলে আমরা তুলে নিবো। কিন্তু দেশব্যাপী হয়রানিমূলক মামলা দায়ের কিংবা মামলা তুলে নেয়ার বিষয়ে আমি কোন বক্তব্য প্রদান করিনি। দেশের জনগণ ও দলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীকে গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভুল বক্তব্যের বিষয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য আমি আহবান জানাচ্ছি।’’
রাজনৈতিক বিতর্ক ও অপপ্রচারের এই প্রেক্ষাপটে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে গুরুত্বসহকারে জনগণকে সতর্ক করার লক্ষ্যে ওই বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন জেলা পর্যায়ে মঞ্চ ভাঙচুর, বক্তব্যের সম্পূর্ণতা ছেঁটে পরিবেশন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় মডিফাই করা অডিও-ভিডিও ক্লিপ ব্যবহার করে রুজি-রি-প্রতারণাগত প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এসব প্রেক্ষিতে বিএনপি নেতৃত্ব ভুল ব্যাখ্যা ছড়িয়ে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্রীয় দফতর থেকে সত্যতা প্রতিপন্ন করে জনমত গঠনের চেষ্টা করছে বলেও জানানো হয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিকটে এ ধরনের ভুল প্রতিবেদনের অপ্রতুলতা উৎসাহে অপপ্রচার বাড়ছে এবং তা জনগণের সিদ্ধান্তকে বিভ্রান্ত করতে পারে। ফলে বড় রাজনৈতিক সাংগঠনিক কেন্দ্রগুলোর জন্য সমন্বিত সংবাদ পাঠানো ও বক্তব্যের ভেরিফিকেশন নিশ্চিত করা এখন অতি জরুরি হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপির স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও আহ্বানই বিভ্রান্তি কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেছেন।
একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের নানান বক্তব্য ও মিডিয়া রিপোর্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় রাজনৈতিক উত্তাপ বেড়ে উঠেছে। ভোটের আগে এমন ত্রুটিপূর্ণ উপস্থাপনা প্রতিরোধে সব দলকেই সতর্ক ও দায়বদ্ধ মানসিকতা গ্রহণ করতে হবে—এই বক্তব্য অবশ্য রাজনৈতিক মহলে শোনা যাচ্ছে।
সমাপ্তিতে, বিএনপির পক্ষ থেকে প্রকাশিত ওই বিবৃতিটি জনমতকে বিভ্রান্ত করা সংবাদ প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান ছাড়াও দলীয় নেতাদেরও ছকের মধ্যে কাজ করার নির্দেশ জোনায়িত করেছে।