হাবিবুর রহমান সাগর , জাবি
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ কয়েকজন আসামির বিরুদ্ধে আগামী ১৩ নভেম্বর রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে একইদিনে‘লকডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামীলীগ । এদিন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েও (জাবি) নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকর্মী কর্তৃক নাশকতার পরিকল্পনা করতে পারে বলে জানা গেছে ।
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মীর সাথে কথা বলে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশের এলাকাগুলো-বিশেষ করে ইসলামনগর, আমবাগান, জামসিং, সাভার এবং ঢাকার মিরপুর অঞ্চলে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের জাবি শাখার অনেক নেতাকর্মীর আনাগোনা বেড়েছে। তাঁদের মধ্যে অনেকে ওইসব এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে অবস্থান করছেন। এরইমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক শান্ত মাহবুবকে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ভবনের দেয়ালে সংগঠনটির পক্ষে দেওয়াল লিখন করতে দেখা গেছে। শান্ত মাহবুব বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মচারীর সন্তান ।
সূত্রটি জানায়, ছাত্রলীগের এ অংশটি ১৩ নভেম্বরের মধ্যে জাকসু ভবনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নাশকতার পরিকল্পনা নিতে পারে। তারা ক্যাম্পাসে প্রবেশের জন্য বিশমাইল গেট, ইসলামনগর গেট এবং মীর মশাররফ হোসেন হল (এমএইচ) গেট ব্যবহার করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে, গত ২৮ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী মিছিল ও সমাবেশ করে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ক্যাম্পাসে ছাত্রদল, জাতীয় ছাত্রশক্তি ও জাকসু প্রতিনিধিদের উদ্যোগে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। ঘটনার পরদিন রাতেই বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আকতারুজ্জামান সোহেল ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ‘হটাও ইউনূস, বাঁচাও দেশ’ লেখা ব্যানারসহ একটি মিছিলের ভিডিও পোস্ট হয়। ভিডিওটিতে ৪৩তম ব্যাচের সহসভাপতি এনামুল হক এনাম, নেতা সোহেল রানাসহ একাধিক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মীকে দেখা গেছে।
এবিষয়ে জাকসুর সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বলেন, ইতিমধ্যে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়র ভিসি, প্রো-ভিসি (প্রশাসন), নিরপত্তা শাখার সাথে কথা বলেছি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য । এছাড়াও সাভার আশুলিয়া থানার সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফটকে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে এবং আশুলিয়া থানার পুলিশ কর্তৃক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংলগ্ন আশেপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে বলা হয়েছে ।