বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে ২০২৯ সালে নির্বাচন হবে—এমন বক্তব্য আসলে ফ্যাসিবাদী কণ্ঠস্বর। তিনি বলেন,
“এ বক্তব্যের মধ্যেই জনগণের অধিকার কেড়ে নেওয়ার ইঙ্গিত লুকিয়ে আছে।”
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন,
“বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা, পদ্মা সেতুর টাকা, ফ্লাইওভারের টাকা—সবই আওয়ামী লীগের হাতে। এই টাকাগুলো দিয়েই তারা নাশকতা সৃষ্টি করে নিজেদের জন্য চোরারাস্তা তৈরি করছে। এমনকি শেখ হাসিনা ভারত থেকে অডিও বার্তা পাঠিয়ে নাশকতার নির্দেশ দিচ্ছেন।”
তিনি আরও বলেন,
“পলাতক নেতারা কখনো সুস্থ চিন্তা করতে পারে না। তারা একটার পর একটা ষড়যন্ত্র করতেই থাকে। আমরা ড. ইউনূসকে সতর্ক করেছিলাম, যারা তার আশপাশে আছে তাদের মধ্যে অনেকেই দোসর। কিন্তু সামগ্রিকভাবে সেই সতর্কবার্তা কার্যকর হয়নি। এখন প্রশাসন বিএনপি বা ছাত্রদলের কাউকে দেখলেই হামলে পড়ছে, যেন তারা রাষ্ট্রের শত্রু।”
বিএনপির নেতা রিজভী ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন,
“বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বিএনপির অবদান অনস্বীকার্য। জিয়াউর রহমানের হাতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে গণতন্ত্রের পুনর্জন্ম ঘটেছিল।”
সাম্প্রতিক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন,
“রাকসু নিয়ে হতাশ হবার কিছু নেই। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন সহাবস্থানের একটি সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, যা দীর্ঘ ১৬-১৭ বছর ছিল না। ফ্যাসিবাদের ছোবলে যেমন প্রশাসন আক্রান্ত হয়েছিল, তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও ছিল নির্যাতনের শিকার। এখন ছাত্রদলসহ সব সংগঠনের মধ্যে সহপাঠ্যতার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে—এটাই ইতিবাচক দিক।”
তিনি ছাত্রদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেন,
“গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে তোমরাই আগামী দিনের শক্তি। ভয় পেও না, ইতিহাস সবসময় সাহসীদের পক্ষেই থাকে।”