বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, “ইসরাইলে যে পিআর পদ্ধতি (Proportional Representation) আছে, জামায়াতে ইসলামী এখন সেই পদ্ধতি অনুসরণ করছে। আমি জানি না কেন তারা ইসরাইলের ফলোয়ার হয়ে গেলেন। তাদের মাথা থেকে এখন পিআরের ভূত চলে গেছে, এখন তারা গণভোট নিয়ে এসেছে।”
শনিবার (৮ নভেম্বর) বিকেলে নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুড়া ইউনিয়নের লেংগুড়া স্কুল ও কলেজ মাঠে আয়োজিত একটি মেডিকেল ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের বাস্তবতায় পিআর পদ্ধতি একেবারেই উপযোগী নয়। ১৬৮৮ সালে লন্ডনে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলেও সেখানেও এখন পর্যন্ত পিআর ব্যবস্থা নেই। এমনকি অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ভারতেও এই পদ্ধতি চালু হয়নি। তাই জামায়াত এখন বুঝতে পেরেছে—বাংলাদেশে পিআর অপ্রয়োজনীয়, এজন্য তাদের ধন্যবাদ জানাই।”
ব্যারিস্টার কায়সার বলেন, “দেশের মানুষ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন দিয়েছে, গুম হয়েছে, ক্রসফায়ারের শিকার হয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানে দেড় মাসে প্রায় দুই হাজার মানুষ আত্মহুতি দিয়েছে—শুধু একটি কারণেই, যাতে দেশে আইনের শাসন ও সাংবিধানিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়।”
তিনি বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, সংসদ নির্বাচন ত্বরান্বিত করতে সব দল একসঙ্গে কাজ করবে। তবে সময় এখন গণভোটের নয়। ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই জাতীয় নির্বাচন হবে। তাই বিএনপি প্রস্তাব দিয়েছে—গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একই দিনে দুইটি ব্যালট পেপারে করা হোক।”
এর আগে সকালে আয়োজিত মেডিকেল ক্যাম্পে প্রায় পাঁচ হাজার অসহায় মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নেন। ৮০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বিভিন্ন বিভাগে চিকিৎসা প্রদান করেন। স্থানীয় মানুষজন ব্যারিস্টার কায়সার কামালের এই মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন।