বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে বিএনপি এতদিন নীরব ছিল, কিন্তু এখন নির্বাচন কমিশনকে ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যেই তফসিল ঘোষণা করতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, “জনগণের ধৈর্যের সীমা ফুরিয়ে আসছে, সময় মতো নির্বাচন না হলে জনগণই রায় দেবে।”
শনিবার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর কাকরাইলে ছাত্রদলের আয়োজনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “আওয়ামী লীগ কখনো গণতন্ত্রের পুনর্বাসন চায়নি। তাদের রাজনীতি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মিথ্যার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সূচনা হয়েছিল ৭ নভেম্বরের বিপ্লবে, যা আজও আমাদের প্রেরণার উৎস।”
তিনি আরও বলেন, “ভারতে বসে আওয়ামী লীগের ১৩ নভেম্বরের লকডাউন কর্মসূচি ঘোষণা পাগলের প্রলাপ ছাড়া কিছুই নয়। শক্তি থাকলে তাদের পালিয়ে থাকতে হতো না। দেশের জনগণ এখন আর তাদের মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে বিভ্রান্ত হবে না।”
বিএনপি নেতা বলেন, “গণভোটের মাধ্যমে সংবিধান পরিবর্তন সম্ভব না হলেও জনগণের ইচ্ছা ও চাওয়ার প্রতি বিএনপি শ্রদ্ধাশীল। রাজনৈতিক নেতাদের উচিত বাস্তবতা মেনে চলা, ঘি দিয়ে তৈলাক্ত বক্তব্য দেওয়া নয়।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “জামায়াতের অনুকূলে রায় দিয়েছে নির্বাচন কমিশন, অথচ এখন নিজেরাই রেফারি হয়ে গোল দেওয়ার চেষ্টা করছে। এভাবে রেফারি ও খেলোয়াড় এক হলে নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা থাকে না।”
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “সরকারের দায়িত্ব একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। সেই নির্বাচনেই জনগণ ঠিক করবে কে ক্ষমতায় থাকবে। বিএনপি সব দলের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত, তবে কোনো দলকে রেফারির ভূমিকায় দেখা যাবে না।”
তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “আমরা গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার চাই, প্রতিশোধ নয়। জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”