মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সিগঞ্জে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক মুজিবুর রহমান (৩৫) হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, লুণ্ঠন ও মাদকসেবনকে কেন্দ্র করে পূর্বপরিকল্পিতভাবে অটোচালক মুজিবুরকে নির্মমভাবে হত্যা করে তার অটোরিকশা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় হত্যাকারীরা।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নিহত মুজিবুরকে ধারণা করা হয় ৩১ অক্টোবর বিকাল ৪টা ৩০ মিনিট থেকে ৩ নভেম্বর সকাল ৭টার মধ্যে কোনো একসময় হত্যা করা হয়। হত্যার পর লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে তার হাত-পা বেঁধে বিছানা ও কম্বল দিয়ে পেঁচিয়ে ডোবার পানিতে ফেলে দেওয়া হয়।
ঘটনার পর মুজিবুরের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়ের করা হলে মুন্সিগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দেন। তার নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল)-এর তত্ত্বাবধানে ইন্সপেক্টর (তদন্ত) সজিব দে, এসআই সোহাগ ও এসআই সাদ্দাম মোল্লার নেতৃত্বে একটি চৌকস তদন্ত টিম গঠন করা হয়।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্তে বেরিয়ে আসে, গত ৩১ অক্টোবর বিকাল ৬টার দিকে মুজিবুরকে মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের বানিক্যপাড়া এলাকার ইমরানের ভাড়াটিয়া বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করিয়ে অচেতন করা হয়। এরপর আসামি সোহাগ তার গলায় রশি প্যাঁচিয়ে ধরে, ইমরান পা চেপে রাখে এবং জয় বুকের ওপর বসে কাঁচি দিয়ে আঘাত করে নৃশংসভাবে হত্যা করে।
হত্যার পর সোহাগের বাড়ি থেকে আনা বিছানার চাদর ও ইমরানের বাসার কম্বল দিয়ে লাশ পেঁচিয়ে তা সোহাগের অটোরিকশায় করে ডোবার পানিতে ফেলে দেওয়া হয়। পরদিন সোহাগ অটোরিকশাটি হারুন নামের এক ব্যক্তির কাছে ৯৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে, পরে হারুন সেটি রামসিং আলীর গ্যারেজে নিয়ে ১ লাখ ১ হাজার টাকায় পুনরায় বিক্রি করে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার আসামিরা সবাই মাদকসেবন ও মাদক বেচাকেনার সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।