গত মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মাধাইয়া মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে বক্তৃতা করেছেন ড. রেদোয়ান আহমেদ, যিনি লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)-র মহাসচিব এবং একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা।
তিনি বলেন, বর্তমানে দুই রাজনৈতিক দল—বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি—বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে।
তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় জামায়াতে ইসলামীকে দায়ী করে বলেন যে, তারা বাংলার মুক্তিকামী নিরীহ জনতা ও মুক্তিযোদ্ধাদের উপর বর্বরোচিত হামলা করেছে, মা-বোনদের বিরুদ্ধে লুণ্ঠন ও নির্যাতন চালিয়েছে এবং স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে।
তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান ‘ভুল’ স্বীকার করলেও, তা অপরাধের পর্যায়ে পৌঁছায় নি—“ভুল” আর “অপরাধ” এক নয়। তিনি দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামিকে তাদের প্রতিটি অপরাধের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে; না হলে বাংলার মাটিতে তাদের বিচার দাঁড়াবে।
একই সাথে ড. রেদোয়ান আহমেদ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বলেন, তারা স্বৈরাচারী শাসন বজায় রাখতে কোটাবিরোধী আন্দোলনে নিরীহ ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, “স্বৈরাচার শেখ হাসিনার নির্দেশে তার বাহিনী গুলি করে শতশত মায়ের বুক খালি করেছে। তবে এই বিচার শেষ না হলে বাংলার মাটিতে তারা রাজনীতিতে থাকতে পারবে না।”
বক্তৃতায় তিনি আরো জানান, আগামী নির্বাচনে তিনি নিজ নির্বাচনী এলাকা কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এবং নিজের দল এলডিপির ‘ছাতা’ প্রতীক নিয়ে ভোটপ্রার্থনা করবেন।
এ সময় সম্মেলনায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা গণতান্ত্রিক স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতৃবৃন্দ ও এলডিপির কেন্দ্রীয় ও উপজেলা নেতারা। সম্মেলনে সাপেক্ষে ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটিও ঘোষণা করা হয়।
সংক্ষেপে, এলডিপি মহাসচিভ ড. রেদোয়ান আহমেদের বক্তব্যে কূটনৈতিক নয় বরং তীব্র রাজনৈতিক অভিযোগ উঠে এসেছে—দুই প্রধান প্রশাসনিক দলকে মানবতাবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি এক নতুন রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ উপস্থাপন করেছেন।