বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আসনে কোনো প্রার্থী দেবে না জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) গণমাধ্যমে এক প্রতিক্রিয়ায় দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
তিনি বলেন, “খালেদা জিয়ার আসনে আমরা কোনো প্রার্থী দিচ্ছি না। তিনি নিজেই প্রার্থী হয়েছেন, আমরা তাকে স্বাগত জানাই। তার আপসহীন ও লড়াকু নেতৃত্ব বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “এনসিপি সর্বদা ঐক্যের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। আমাদের লক্ষ্য হলো গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর সম্মিলিতভাবে সংসদে প্রবেশ নিশ্চিত করা।”
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান, এবি পার্টির সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুরের মতো নেতারা প্রার্থী হয়েছেন। “আমরা চাই এই সব সহযোদ্ধারা সংসদে গিয়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখুন,”— যোগ করেন তিনি।
এনসিপি নেতা বলেন, “খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তাঁর ত্যাগ ও সংগ্রাম আমাদের অনুপ্রেরণা জোগায়। তাই তার আসনে কোনো প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি সম্মান ও ঐক্যের স্বার্থে।”
এদিকে সোমবার (৩ নভেম্বর) বিএনপি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ২৩৭ আসনে প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে। তালিকায় দেখা যায়, বেগম খালেদা জিয়া ফেনী–১, দিনাজপুর–৩ ও বগুড়া–৭ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। বিএনপির এই ঘোষণা প্রকাশের একদিন পর এনসিপি আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের সিদ্ধান্ত জানায়।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ঐক্যবদ্ধ অংশগ্রহণের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন সংসদে আরও শক্তিশালী রূপ পাবে। আমরা বিশ্বাস করি, এই সম্মিলিত প্রয়াস দেশের গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
তিনি আরও বলেন, “আজ সময় এসেছে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, বরং ঐক্যের মাধ্যমে জনগণের অধিকার ফিরিয়ে আনার। আমরা আশা করি, বিএনপি ও ঐক্যবদ্ধ গণতান্ত্রিক শক্তিগুলো দেশের জন্য একটি নতুন অধ্যায় সূচনা করবে।”