আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক মাঠে পরিবর্তিত বাস্তবতা তুলে ধরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, “প্রতীক ভাড়া দেওয়ার দিন শেষ, মাঠ আর আগের মতো নেই, আগের ইকুয়েশন এবার মিলবে না।”
মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে তিনি লেখেন, “প্রতীক ভাড়া দেয়ার দিন শেষ। জোট করলেও নিজ দলের প্রতীকে নির্বাচন করতে হবে। মাঠ এখন সম্পূর্ণ বদলে গেছে। আগের হিসাব এবার মিলবে না— সময়মতো বুঝে নিন। ইনকিলাব জিন্দাবাদ।”
সারজিস আলমের এই বক্তব্য আসে এমন এক সময়, যখন সোমবার সরকার নতুন করে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন করে একটি অধ্যাদেশ জারি করেছে। এতে জোট করে নির্বাচন করলেও প্রতিটি দলকে নিজ নিজ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
সংশোধিত আরপিও অনুযায়ী, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ, মাদরাসা ও কলেজ কমিটিতে থাকা কেউ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। আদালত ঘোষিত পলাতক আসামিরাও প্রার্থী হতে পারবেন না। একই সঙ্গে দেড় দশক পর সেনাবাহিনী নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করতে পারবে।
এবারের নির্বাচনে আরও যুক্ত হয়েছে নতুন কিছু বিধান—‘না ভোট’ চালু হয়েছে, সমান ভোট পেলে পুনঃভোটের বিধান রাখা হয়েছে, প্রার্থীদের জামানত বেড়ে হয়েছে ৫০ হাজার টাকা, আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে দলকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা যাবে, এবং প্রথমবারের মতো আইটি সাপোর্টে পোস্টাল ভোটিং চালু হয়েছে।
এছাড়া কোনো কেন্দ্রে অনিয়ম বা গোলযোগ হলে নির্বাচন কমিশন পুরো আসনের ভোট বাতিল করতে পারবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির অপব্যবহার নির্বাচনি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে, এবং প্রার্থীরা হলফনামায় অসত্য তথ্য দিলে নির্বাচিত হওয়ার পরও শাস্তির মুখোমুখি হতে পারবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সারজিস আলমের এই মন্তব্য নতুন আরপিও বাস্তবতার প্রতি ইঙ্গিতবাহী, যেখানে ঐতিহ্যগত প্রতীকভিত্তিক জোট রাজনীতির যুগ শেষের পথে।