বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, দেশের মানুষ এখন একটি নীরব বিপ্লবের প্রস্তুতি নিচ্ছে, এবং সেই বিপ্লবের প্রতিফলন ঘটবে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে—যেখানে জনগণ দাঁড়িপাল্লাকে বিজয়ী করে আনবে।
সোমবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের প্রীতি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, “হাসিনা পালানোর পর কিছু গোষ্ঠী ভেবেছিল বাংলাদেশ তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি, কিন্তু এই দেশ ১৮ কোটি মানুষের, এর মালিক জনগণ।”
রফিকুল ইসলাম খান বলেন, “বাংলাদেশে আল্লাহর আইন ও সৎ মানুষের শাসন প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত জামায়াত সংগ্রাম চালিয়ে যাবে।” তিনি অভিযোগ করেন, অতীতের সরকারগুলো দমন-নিপীড়ন, ক্রসফায়ার ও দুর্নীতির রাজনীতি চালিয়েছে, যা এখনো থামেনি। তিনি বলেন, “দুর্নীতি দমন না করলে সমাজে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়, তাই জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে।”
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, যিনি ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের ত্যাগ ও সংগ্রামের কথা স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, “এই আন্দোলনে শতাধিক নেতা-কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন, হাজারো মানুষ আহত বা পঙ্গু হয়েছেন—তাদের রক্তের বিনিময়েই আজকের পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি হয়েছে।”
বক্তারা আরও বলেন, জনগণ এখন বিভাজনের রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করেছে। খুলনায় অনুষ্ঠিত হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্মেলনে যেমন দেখা গেছে, মানুষ এখন ঐক্য ও ইনসাফের রাজনীতিকে বেছে নিচ্ছে। তারা বিশ্বাস করেন, আগামী নির্বাচন হবে জনগণের আত্মবিশ্বাস ও ঐক্যের প্রতিফলন, এবং “দাঁড়িপাল্লা”র প্রতীকই সেই পরিবর্তনের প্রতীক হয়ে উঠবে।