হাবিবুর রহমান সাগর ,জাবি প্রতিনিধি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতাধীন নির্মাণাধীন একটি দশতলা ভবনের অষ্টম তলা থেকে পড়ে রাকিব (২৬) নামে এক নির্মাণ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৩১ অক্টোবর ২০২৫) সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশমাইল এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের জন্য নির্মিত ওই ভবনের অষ্টম তলা থেকে নির্মাণ বর্জ্য ভর্তি বস্তা মাথায় নিয়ে নিচে ফেলতে গিয়ে ভারসাম্য হারিয়ে বস্তাসহ নিচে পড়ে যান রাকিব। নিচে জমে থাকা নির্মাণ বর্জ্যের স্তুপের ওপর পড়ে তিনি গুরুতর আহত হন।
তাৎক্ষণিকভাবে সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সাভারের ইসলামিয়া মেডিকেলে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক দ্রুত এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। পরে সেখানে নেওয়ার পর চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত রাকিবের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি ইউনিয়নে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে এবং দাফন-কাফনের জন্য প্রাথমিকভাবে দুই লাখ টাকা প্রদান করা হয়েছে।
রাকিবের মৃত্যুর ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। উপাচার্যের রুটিন দায়িত্বে থাকা উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন,
“এই দুর্ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও দুঃখজনক। রাকিবের মৃত্যু তার পরিবারের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। আমরা তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।”
তিনি আরও জানান, ঘটনাটি জানার পরপরই প্রশাসনিক জরুরি সভা আহ্বান করা হয়। সভায় এ ঘটনার পেছনে কোনো নিয়মতান্ত্রিক ত্রুটি বা গাফিলতি ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়-নির্মাণাধীন ভবনের চারপাশে ২য় তলা লেভেলে মানসম্মত নিরাপত্তা জাল (সেফটি নেট) এবং নির্মাণ বর্জ্য নিচে নামানো ও সামগ্রী উপরে তোলার জন্য বেল্ট প্ল্যাটফর্ম স্থাপন না করা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল নির্মাণাধীন ভবনের ১ম তলার ওপরে কাজ বন্ধ থাকবে।
অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান নির্মাণাধীন প্রকল্পে কর্মরত সকলকে নিরাপত্তা বিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আর দেখতে চাই না। নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নেবে।”
উল্লেখ্য, এর আগে চলতি বছরের ১ আগস্ট একই প্রকল্পের আওতায় আরেক শ্রমিক মো. আরিফুল ইসলাম নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে প্রাণ হারান।