ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, “জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেও আইনি ভিত্তি না দেওয়া জাতির সঙ্গে প্রতারণার শামিল।” শনিবার বিকেলে রাজধানীর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির আয়োজিত নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
জাহিদুল ইসলাম বলেন, “এই সরকারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিল। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে—যারা ছাত্র ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে হত্যা করেছে, তাদের গণহত্যার বিচার করা। পাশাপাশি রাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অচলাবস্থায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার করা এবং এমন একটি নির্বাচন আয়োজন করা যা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।”
তিনি আরও বলেন, “গণহত্যার বিচারে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা ধীরগতির। এখনো কোনো দৃশ্যমান রায় হয়নি। আমরা আশা করি সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেবে।”
জুলাই সনদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দীর্ঘ আলোচনার পর একটি সনদে স্বাক্ষর করা হলেও আইনি ভিত্তি না দেওয়ার প্রবণতা জাতির সঙ্গে প্রতারণা ছাড়া কিছু নয়। রাজনৈতিক দলগুলো স্বাক্ষর করেছে, কিন্তু এখন কেউ কেউ টালবাহানা করছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।”
তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “জুলাই সনদকে দ্রুত আইনি ভিত্তি দিতে হবে এবং গণভোটের আয়োজন করতে হবে। গণভোটের মাধ্যমে জনগণের আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হবে এবং দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ঢাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক সোহেল আহমেদ, এবং সাবেক ছাত্রশিবিরের নেতারা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা শিক্ষা, ন্যায়বিচার ও নৈতিক নেতৃত্বের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন এবং বলেন, সংস্কার বাস্তবায়নের মাধ্যমেই দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি ন্যায্য সমাজ গড়ে তুলবে।