ইরফান উল্লাহ, ইবি :
ঢাকার মগবাজার রেলগেট এলাকায় মিছিলের প্রস্তুতিকালীন সময়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ১৩ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতদের মধ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) জুলাই আন্দোলনকারীদের ‘ছাড়বান্নানে’ হুমকি দেওয়া নিষিদ্ধ শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেজবাহুল ইসলাম রয়েছেন। তিনি আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্মের সভাপতি ।
শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) সকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন
পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের একটি দল মগবাজার রেলগেটের সামনে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দায়িত্বরত কর্মকর্তা এসআই শাহীন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সংগঠনটির কয়েকজন নেতাকর্মী মগবাজার এলাকায় মিছিলের উদ্দেশ্যে সমবেত হয়। এসময় সিটিটিসি ইউনিটের সদস্যরা অভিযান চালিয়ে ১৩ জনকে আটক করে।
প্রাথমিকভাবে আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে কী কারণে বা কোন অভিযোগে তাদের আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানায়নি পুলিশ।
জানা যায়, জুলাই আন্দোলন চলাকালীন তিনি আন্দোলনকারীদের প্রকাশ্যে হুমকি দেন। এছাড়া ১৪ জুলাই রাতে ‘রাজাকার রাজাকার’ স্লোগান দেওয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে ‘দেখে নিব’ ও ‘ ছাড়বান্নানে’ হুমকিও দেন তিনি। ক্যাম্পাসে নারীদের উত্যক্ত করা, গণরুমের শিক্ষার্থীদের নির্যাতনসহ একাধিক অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
গ্রেপ্তারকৃত মেজবাহ জুলাই আন্দোলন চলাকালীন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তার এক ভিডিও বার্তায় বলেন, “ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা নিজেদের রাজাকার পরিচয় দিয়ে চিল্লাচিল্লি করেছে তাদের কপাল ভালো যে আমি সেখানে ছিলাম না।
আমার ছাত্রত্ব যাক বা জীবন যাক কিছু যায় আসে না। কিন্তু এরপরে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটিতে যারা নিজেকে রাজাকার দাবি করবে, তাদেরকে আমি ছাড়বান্নানে। হয় আমার জীবন থাকবে, না হয় এই রাজাকারদের আমি উৎখাত করবই।
এই রাজাকারের বাচ্চাদের বাংলায় থাকার কোনো অধিকার নেই।আজকে আমি ছিলাম না বলে বেঁচে গেছিস। আয়, রাজাকারের বাচ্চারা সামনে আয়, তোদের আমি দেখে নেব।”
এদিকে গ্রেফতারের ঘটনাকে ‘অন্যায়’ আখ্যা দিয়ে নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পোস্টে নিন্দা জানিয়েছে নিষিদ্ধ সংগঠনটি। তারা বলেন, “গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের চলমান আন্দোলনে ‘দখলদার বাহিনী’ কোনো মামলা ছাড়াই অন্যায়ভাবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মেজবাহুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।”
বিবৃতিতে গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও জোরালো প্রতিবাদ জানিয়ে মেজবাহুল ইসলামের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানায় তারা। বিবৃতির শেষে লেখা হয় ‘