শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

অন্যান্য

হাসিনাকে নিয়ে বাংলাদেশবিরোধী নতুন ষড়যন্ত্র দিল্লির

বিচারের শেষ পর্যায়ে থাকা পলাতক নেতা শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশবিরোধী নতুন একটি কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক কৌশল আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় দৃশ্যমান হয়েছে—এমন দাবি করছে বিশ্লেষকরা ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। গতকাল একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে—রয়টার্স, এএফপি ও দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট—প্রকাশিত হাসিনার সাক্ষাৎকারকে বিশ্লেষকরা দিল্লির কৌশলের অংশ হিসেবে দেখছেন, যার মূল লক্ষ্য হলো ভবিষ্যৎ নির্বাচনকে আক্রান্ত করা এবং […]

হাসিনাকে নিয়ে বাংলাদেশবিরোধী নতুন ষড়যন্ত্র দিল্লির

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

৩০ অক্টোবর ২০২৫, ১০:৩৮

বিচারের শেষ পর্যায়ে থাকা পলাতক নেতা শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশবিরোধী নতুন একটি কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক কৌশল আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় দৃশ্যমান হয়েছে—এমন দাবি করছে বিশ্লেষকরা ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। গতকাল একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে—রয়টার্স, এএফপি ও দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট—প্রকাশিত হাসিনার সাক্ষাৎকারকে বিশ্লেষকরা দিল্লির কৌশলের অংশ হিসেবে দেখছেন, যার মূল লক্ষ্য হলো ভবিষ্যৎ নির্বাচনকে আক্রান্ত করা এবং দেশকে অস্থিতিশীল করা।

আন্তর্জাতিক সাক্ষাৎকারে হাসিনা স্পষ্ট করে বলেছেন, জুলাই গণহত্যার জন্য ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই আসে না, এবং আওয়ামী লীগ ছাড়া আগামী নির্বাচনে লাখ লাখ সমর্থক ভোট বর্জন করবে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে গঠিত কোনো সরকারের শাসনকালেই তিনি দেশে ফিরবেন না; বরং ভারতে অবস্থান করবেন—এমনই ঘোষণা দিলেন সাক্ষাৎকারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দিল্লির উদ্দেশ্য স্পষ্ট — আদালতের রায়কে সামনে রেখে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ সমীকরণে প্রভাব ফেলা। আদালতের সম্ভাব্য রায়ের আগে হাসিনার এসব বক্তব্য আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিয়ে একটি মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক চাপ তৈরির প্রচেষ্টা নেওয়া হয়েছে।

অভ্যন্তরীণ সূত্র ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের বরাতে জানা যায়, দিল্লিতে হাসিনার জন্য কেবল রাজনৈতিক সমর্থন নয়—একটি সংগঠিত প্রশাসনিক কাঠামোও গড়া হয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ সব ধরনের লজিস্টিক ও নিরাপত্তা উপকরণ আছে বলে অভিযোগ। একই সঙ্গে কলকাতায় বসবাসরত কিছু পরিচিত নেতা-সহ বিভিন্ন দলে থাকা অনুসারীদের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে—এই অভিযোগও উঠে এসেছে।

মোঃ রবিউল আলম, ঢাকা প্রতিনিধি জানান, দিল্লি শুধু রাজনৈতিক আশ্রয়ই দিচ্ছে না; বেশ কয়েকজন সাবেক সামরিক ও পুলিশি কর্মকর্তাসহ অফিসারদেরও আশ্রয় দেয়া হয়েছে—যাদের বিরুদ্ধে দেশে গুম, খুন ও মানবতাবিরোধী বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। এসব ব্যক্তিরা কলকাতায় বসে তথ্য-প্রচারণা, অস্থিরতা সৃষ্টির কৌশল এবং স্থানীয় গ্রুপগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের কাজ করছে—বলছে কিছু বিশ্লেষক।

রাজনীতিবিদ ও কূটনীতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, ভারতের এই পদক্ষেপের পিছনে একটি বৃহত্তর কৌশল কাজ করছে—যার লক্ষ্য বাংলাদেশে পুনরায় সেই রাজনৈতিক প্রভাব ফিরিয়ে আনা, যা নানাভাবে ২০০০ দশকের শাসনকালীন কূটনৈতিক সম্পর্কের ন্যায় হবে। কিন্তু পরবর্তীতে সরকারের পরিবর্তন ও স্বাধীন নীতি গ্রহণের ফলে দিল্লির পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে—এমনটা দাবি করা হচ্ছে।

সরকারি ও কূটনৈতিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন বর্তমান অন্তর্বর্তী প্রশাসন পররাষ্ট্রনীতিতে স্বাধীনতা বজায় রাখায় দিল্লির আগ্রাসী কৌশল কার্যকর করতে পারেনি। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিয়েছেন—আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা গ্রুপের বক্তব্য বারবার প্রকাশ করলে তা দ্রুত জনমত গড়ায় এবং রাজনৈতিক অবস্থা জটিল করতে পারে।

অন্যদিকে কূটনৈতিক মহল বলছে, যদি আদালতের রায়ে দৃঢ় সিদ্ধান্ত আসে, তা হলে দেশের অভ্যন্তরীন মঞ্চে নতুনভাবে সংঘাতের ভিত্তি তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কাও রয়েছে। এজন্য কিছু বিশ্লেষক পরামর্শ দিচ্ছেন, আন্তর্জাতিক মিডিয়া কভারেজের প্রেক্ষিতে তথ্যভিত্তিক কূটনীতি ও অভ্যন্তরীণ সংহতির ওপর জোর দেওয়ার প্রয়োজন।

অন্যান্য

বাংলাদেশকে ভারতের প্রভাবমুক্ত করার দাবি, ৮ বিভাগে অবরোধের ডাক দিল ইনকিলাব মঞ্চ

শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশকে ভারতীয় প্রভাবমুক্ত করার দাবিতে আগামী রোববার (২৮ ডিসেম্বর) দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে একযোগে অবরোধ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ।

নিউজ ডেস্ক

২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:৩৬

শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশকে ভারতীয় প্রভাবমুক্ত করার দাবিতে আগামী রোববার (২৮ ডিসেম্বর) দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে একযোগে অবরোধ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর শাহবাগে চলমান অবস্থান কর্মসূচি থেকে এই ঘোষণা দেন সংগঠনটির সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। তিনি জানান, রোববার সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই অবরোধ কর্মসূচি চলবে। তিনি আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বলেন, যারা আজ শাহবাগে উপস্থিত হয়েছেন, তারা যেন আগামীকালও ঠিক ১১টায় শাহবাগে হাজির হন এবং ইনসাফের এই লড়াই শেষ পর্যন্ত চালিয়ে যান। কোনো ধরনের প্ররোচনা, ভয়ভীতি বা চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, এই অবরোধ শুধু শহীদ হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে নয়, বরং বাংলাদেশের ওপর দীর্ঘদিন ধরে চাপিয়ে দেওয়া ভারতীয় আধিপত্য ও প্রভাব থেকে মুক্তির দাবিতেও এই আন্দোলন। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যদি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস হাদি হত্যার বিচারের বিষয়ে দ্রুত ও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেন, তাহলে ইনকিলাব মঞ্চ তাকে আর মান্য করবে না। ইনসাফের প্রশ্নে কোনো আপোস করা হবে না বলেও স্পষ্ট করে দেন তিনি।

বক্তব্যে কিছু গণমাধ্যমের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে জাবের বলেন, একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে। তারা দাবি করছে ইনকিলাব মঞ্চ যমুনা ভবন ঘেরাওয়ের পরিকল্পনা করছে এবং এটিকে সন্ত্রাসী কার্যক্রম হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের অফিসিয়াল পেজ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত কোনো তথাকথিত সংবাদ বা গুজবে বিশ্বাস না করার জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি আরও জানান, গত কয়েক দিন ধরে সংগঠনের নেতাকর্মীরা হত্যার হুমকি পাচ্ছেন। তবে তারা মৃত্যুকে ভয় করেন না। ‘শাহাদাতের তামান্না’ নিয়েই তারা রাজপথে নেমেছেন বলে জানান জাবের। তিনি উপস্থিত ছাত্র-জনতাকে উদ্দেশ করে প্রশ্ন ছুড়ে দেন, “আমরা যদি শহীদ হয়ে যাই, তাহলে কি আপনারা ইনসাফের এই লড়াই থামিয়ে দেবেন?” উপস্থিত জনতা একযোগে ‘না’ বলে স্লোগান দিলে তিনি আন্দোলন অব্যাহত রাখার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।