আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ও স্বচ্ছ নির্বাচন হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, এ নিয়ে কারও আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই, কারণ অন্তর্বর্তী সরকার একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বুধবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নির্বাচন আয়োজন নিয়ে কোনো আতঙ্ক আছে কি না—এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে শফিকুল আলম বলেন,
“আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম সেরা নির্বাচন। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।”
তিনি জানান, এর আগে সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে নির্বাচনী প্রস্তুতিবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন আয়োজনের প্রাথমিক কার্যক্রম দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেন এবং ১৫ নভেম্বরের মধ্যে সব প্রাথমিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেন।
শফিকুল আলম বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা স্পষ্টভাবে বলেছেন—একটি দিনও যেন নষ্ট না হয়। সবাইকে এখন থেকে পূর্ণ উদ্যমে প্রস্তুতি নিতে হবে।”
তিনি আরও জানান, নির্বাচনের তফসিল ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন, এবং ভোট অনুষ্ঠিত হবে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে।
প্রেস সচিব বলেন, বিগত তিনটি নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করেছেন এমন কর্মকর্তাদের এবার দায়িত্বে রাখা হবে না। এছাড়া কোনো কর্মকর্তা নিজ জেলা বা আত্মীয়-স্বজন প্রার্থী থাকা এলাকায় দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। এসব নির্দেশনা অনুসারে স্বরাষ্ট্র ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছে।
এছাড়া নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও শুরু করেছে, যাতে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্ব বজায় থাকে।
সরকারের লক্ষ্য, দেশের ইতিহাসে একটি গণতান্ত্রিক, সহিংসতামুক্ত ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা, যেখানে জনগণ মুক্তভাবে ভোট দিতে পারবে—এ কথাই বারবার জোর দিয়ে বলেছেন প্রধান উপদেষ্টা।