বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার নেওয়া ব্যক্তিদের তার অতীত কর্মকাণ্ড মনে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন,
“একবিংশ শতাব্দীতে শেখ হাসিনার চেয়ে বড় খুনি বা মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী আর কেউ নেই।”
বুধবার বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক শেখ হাসিনার বিদেশি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সাক্ষাৎকার নিয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে শফিকুল আলম বলেন,
“শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার গ্রহণের বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালই মন্তব্য করতে পারবে। আমরা এখনো সাক্ষাৎকারটি পড়িনি, পড়ার পর মন্তব্য করব।”
তিনি আরও বলেন,
“যারা তার ইন্টারভিউ করছেন, তারা যেন তার অতীত ভুলে না যান। শেখ হাসিনার মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি জাতিসংঘের রিপোর্টে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। এছাড়া আরও দুটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এসেছে, তিনি নিজেই হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন।”
এদিন যুক্তরাজ্যভিত্তিক দ্য ইনডিপেনডেন্ট, আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এবং এএফপি শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার প্রকাশ করে।
রয়টার্সের সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগকে সুযোগ না দিলে তারা ভোট বর্জন করবে। এ বিষয়ে কোনো সমস্যা হতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে শফিকুল আলম বলেন,
“আমরা তেমন কিছু মনে করি না। আওয়ামী লীগ এখন কোথায়? আমরা তো কোথাও তাদের দেখি না। মাঝে মাঝে দু-একটা ঝটিকা মিছিল করে, কেউ কেউ হয়তো কয়েক ডলার পায়, এই তো।”
প্রেস সচিব আরও বলেন,
“যে দাবিগুলো শেখ হাসিনা করেন, সেগুলো যেন একতরফা না থাকে। এমনকি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) তার দলের করা আবেদনে শেখ হাসিনার মানবাধিকার লঙ্ঘনের কোনো উল্লেখ নেই, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা দাবি করছে চারশত মানুষ মারা গেছে, সেটিও কোনো যাচাই ছাড়াই প্রচার করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন,
“দেশের টাকা চুরি করে শেখ হাসিনা যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে দামি আইনজীবী প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দিয়েছেন। আর দেশের কিছু ব্যক্তি সেই অপপ্রচারকেই প্রচার করছে, যা জাতির জন্য লজ্জাজনক।”