বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক দু-একদিনের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। ওই বৈঠকের পরেই একক প্রার্থীর মনোনয়ন নিশ্চিতের ঘোষণা দেওয়া হবে। দলীয় ঐক্য ধরে রেখে মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে একযোগে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সতর্ক করে বলেন, বিভাজন বা কাদা ছোড়াছুড়ি করলে প্রতিপক্ষ সুযোগ নেবে, আর তা হলে বিএনপির সামনে আরও কঠিন সময় নেমে আসবে।
সোমবার ছিল পাঁচ বিভাগীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের শেষ দিন। এদিন বিকেলে সিলেট, খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল ও ঢাকা বিভাগের প্রার্থীদের সঙ্গে গুলশানের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠক করেন তারেক রহমান।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, অক্টোবর মাসের মধ্যেই অন্তত ২০০ আসনে একক প্রার্থীর তালিকা ঘোষণা করা হবে। সভায় তারেক রহমান বলেন,
“এক আসনে এক প্রার্থী—এই নীতিতেই দল চলবে। সবাই মনোনয়ন পাবেন না, তবে যারা মনোনয়ন পাবেন না, দল তাদের যথাযথভাবে পুরস্কৃত করবে।”
পাঁচ বিভাগের অন্তত দশজন মনোনয়নপ্রত্যাশী জানিয়েছেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চলমান ষড়যন্ত্রের সময় ভুল পদক্ষেপ না নিতে তারেক রহমান সবাইকে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন,
“ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। মনোনয়ন পাওয়ার পর আনন্দ মিছিল, মিষ্টি বিতরণ বা ফুল দেওয়া যাবে না। এগুলো ঐক্য নষ্ট করে।”
সভায় সভাপতিত্ব করেন তারেক রহমান, আর সঞ্চালনা করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
সন্ধ্যা ৫টা থেকে সিলেট ও খুলনা বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে বৈঠক হয়। সিলেট বিভাগের চার জেলার ৬৬ জন প্রার্থী অংশ নেন—সুনামগঞ্জে ১৬ জন, সিলেটে ২৬ জন, হবিগঞ্জে ১৬ জন এবং মৌলভীবাজারে ৮ জন।
সিলেট বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গউছ বলেন,
“সভায় বলা হয়েছে, দল একজনকেই মনোনয়ন দেবে। দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।” খুলনা-৪ আসনের প্রার্থী পারভেজ মল্লিক বলেন, “ষড়যন্ত্র চলছে, এজন্য সবাইকে সজাগ থাকতে বলেছেন তারেক রহমান।”
এর আগে বিকাল ৪টা থেকে রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগের প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। রাজশাহীর প্রায় ১০০ এবং বরিশালের ৭০ জন প্রার্থী উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে তারেক রহমান বলেন,
“জনগণের দ্বারে দ্বারে যেতে হবে, ভোটারদের উজ্জীবিত করতে হবে, ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য বিশ্বাসযোগ্য প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।”
তিনি খালেদা জিয়ার ত্যাগ, নির্যাতন ও সংগ্রামের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে নেতাদের বলেন,
“দেশ, জাতি ও গণতন্ত্রের জন্য ঐক্যই এখন সবচেয়ে বড় শক্তি। মনোনয়ন যাকেই দেওয়া হোক, লক্ষ্য একটাই—ধানের শীষের জয়।”
রাজশাহী বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলীম বলেন,
“সভায় ঐক্য ধরে রাখার কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
বরিশাল-৫ আসনের প্রার্থী আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ বলেন, “তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেছেন—যাকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে, সবাই মিলে তার জন্য কাজ করতে হবে।”