বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেছেন, “যাঁরা জনগণের ভোটে বিশ্বাসী নন, তাঁরাই গণভোটকে ভয় পান। এ কারণেই তাঁরা গণভোট আয়োজনে অন্তর্বর্তী সরকারকে সহযোগিতার পরিবর্তে সংবিধানের দোহাই দিয়ে ভুল পথে পরিচালিত করছেন।”
সোমবার (২৭ অক্টোবর) ঢাকার কারওয়ান বাজারে জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কার্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, “জুলাই সনদে পিআর (Proportional Representation) পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এই পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে নব্য ফ্যাসিবাদের পরিণতি আওয়ামী লীগের মতোই হবে। গত ৫৪ বছর ধরে যে ভোটব্যবস্থা চলছে, তাতে জনগণের সরকার কখনো গঠিত হয়নি, হবেও না।”
মুজিবুর রহমান বর্তমান নির্বাচনী কাঠামোকে স্বৈরাচার তৈরির পদ্ধতি বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “একদলীয় শাসনব্যবস্থায় শান্তি আসে না। সকল দলের প্রতিনিধিত্বমূলক সংসদ গঠিত হলে একক কোনো দল স্বৈরাচারী হতে পারবে না।”
২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের ঘটনাকে বাংলাদেশের ইতিহাসের এক কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সেদিন আওয়ামী লীগ সারা দেশে লগি-বইঠা দিয়ে মানুষ হত্যা করেছে, জামায়াত-শিবিরের ১৪ জন কর্মীকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়—যা মানবসভ্যতার ইতিহাসে ঘৃণিত।” তিনি এসব হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান বলেন, “২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগের মূল লক্ষ্য ছিল জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের হত্যা করা। মামলা হলেও পরে তদন্তের নামে তা স্থগিত করা হয়।”
সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল। আরও উপস্থিত ছিলেন সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকির, ও হেলাল উদ্দিন প্রমুখ।