জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, যদি শাপলা প্রতীক পেতে রাজপথে নামতে হয়, তাহলে এনসিপি একই সঙ্গে স্বেচ্ছাচারী নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের আন্দোলনেও যাবে। শনিবার দুপুরে কিশোরগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, “প্রশাসনের ভেতরে এখনো কেউ বিএনপিপন্থি, কেউ জামায়াতপন্থি বা কারও অতীত আওয়ামী সম্পৃক্ততা থেকে আচরণ টেনে আনছেন। আমরা সবাইকে সতর্ক করছি—আগামীতে যদি কেউ একই মনোভাব বহাল রাখেন, তাহলে তাদের কোনো আশ্রয়-প্রশ্রয় থাকবে না। এখনকার অভ্যুত্থানের মতো বড় ঘটনা বাংলাদেশে আর দেখা যাবে না।”
সারজিস আলম বলেন, “আমরা চাই প্রশাসন দলীয় না হয়ে রাষ্ট্রের প্রশাসন হিসেবে কাজ করুক। হাইকোর্টসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ আদালতগুলোতে এখনো আওয়ামী দোসররা বসে আছে। সুযোগ পেলেই তারা গুরুত্বপূর্ণ হত্যা মামলার আসামিদের জামিন দেয়। কেউ টাকার বিনিময়ে, কেউ রাজনৈতিক সমঝোতায়। আইন মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যদি এখনই কঠোর না হয়, তাহলে দেশের স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়বে।”
তিনি আরও বলেন, “আগামীর বাংলাদেশে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন, মৌলিক সংস্কার এবং বিচারিক প্রক্রিয়া টিকিয়ে রাখতে বিএনপি বা জামায়াত এককভাবে নেতৃত্ব দিতে পারবে না। সেখানে এনসিপির উপস্থিতি ও নিশ্চয়তা প্রয়োজন।”
নির্বাচন কমিশনকে স্বেচ্ছাচারী ও পক্ষপাতদুষ্ট বলে অভিযোগ করে সারজিস আলম বলেন, “আইনগতভাবে শাপলা প্রতীক পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। কিন্তু কমিশন তাদের স্বাধীনতা প্রমাণে ব্যর্থ হলে, আমরা তাদের ওপর আস্থা রাখতে পারব না।”
সভায় সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব আহনাফ সাঈদ খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ হায়দার, কেন্দ্রীয় নেতা খায়রুল কবির ও দিদার শাহ।