বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য নষ্ট হলে অতীতের মতোই ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার পথে সুযোগ খুলে যাবে — এজন্য সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। রোববার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে গণঅধিকার পরিষদের প্রতিষ্ঠাবর্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন বলেন, “আমরা যে ঐক্যে ছিলাম, সেটিই আমাদের বিজয়ের কারণ হয়েছিল। ঐক্য যদি কোনোভাবে নষ্ট হয় তাহলে সেটা কেবল ফ্যাসিবাদের প্রত্যাবর্তনকেই প্রবলভাবে উৎসাহিত করবে — আমরা যেন সেদিকে না যাই।” তিনি প্রত্যেক মহলে ঐক্য রক্ষার গুরুত্ব জোর দিয়ে বলেন, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের বিষয়ে সবাই একসঙ্গে থাকতে হবে।
মহাপরিচালনার অঙ্গ হিসেবে তিনি বলেন, জুলাই সনদকে তারা জাতীয় জীবনে একটি ঐতিহাসিক রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে দেখেন এবং সেটি বাস্তবায়নের জন্য সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। “আমাদের লক্ষ্য হল— অগ্রযাত্রাকে এমনভাবে সাজানো যাতে ভবিষ্যতে কেউ আদালতে গিয়ে এই প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে না পারে,” তিনি আরও বলেন।
সভায় তিনি নতুন সরকারি-অধিবৃত্ত রাজনৈতিক প্রস্তাবগুলোকে বাস্তবসম্মতভাবে উপস্থাপনের পরামর্শ দেন। বলেন, “নতুন রাজনৈতিক দল যেসব বক্তব্য দিচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে কিছু অবশ্যই গ্রহণযোগ্য; কিন্তু আমাদের প্রতিটি প্রস্তাব এমনভাবে গঠন করতে হবে যাতে তা আইনগত ও নৈতিকভাবে টেকসই থাকে।” সালাহউদ্দিন আরও সতর্ক করে বলেন, প্রচলিত আইন ও সংবিধান সম্মত পথেই পরিবর্তন আনতে হবে — নাহলে ভবিষ্যতে ঐক্যের ভিত্তি ধূলোয় মিশে যেতে পারে।
আলোচনাসভায় দলীয় নেতৃত্ব, বিশিষ্ট রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা সামনের দিনগুলোতে ঐক্য রক্ষার কাঁঠিন পথ নিয়ে তাদের প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা নিয়ে আলাপ করেন। বিশেষভাবে আলোচনা করা হয় কীভাবে সুশ্রীভাবে রাজনৈতিক আন্দোলনকে সংগঠিত রাখা যায় এবং জনপ্রিয় সহমত তৈরি করা যায়।
মোঃ রবিউল আলম, ঢাকা থেকে জানালেন, এই সভা থেকে উঠে আসা প্রধান বার্তাটি ছিল— ঐক্যের সাথে রীতি ও নিয়ম মেনে সুসংহতভাবে চললে দেশীয় গণতন্ত্রের পুনর্গঠন সম্ভব। জনগণের আশা— ঐক্যের মধ্য দিয়েই সুষ্ঠু পরিবর্তন আসবে এবং ফ্যাসিবাদের পুনরাবির্ভাব রোধ করা হবে।