শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন ‘নিখোঁজ’

সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এখন কোথায়? তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সরকারের কাছেও তার বিষয়ে হালনাগাদ কোনো তথ্য নেই। তবে ইতোমধ্যে তিনি স্বামীসহ দেশ ছেড়ে সীমান্তের ওপারে (ভারতে) আশ্রয় নিয়েছেন-এমন গুঞ্জন রয়েছে। তার বিরুদ্ধে হওয়া হত্যা মামলার এক বছরেও তদন্ত শেষ না হওয়ায় আইনি ব্যবস্থা নিতে দ্বিধায় রয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় […]

নিউজ ডেস্ক

২৬ অক্টোবর ২০২৫, ১০:১৯

সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এখন কোথায়? তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সরকারের কাছেও তার বিষয়ে হালনাগাদ কোনো তথ্য নেই। তবে ইতোমধ্যে তিনি স্বামীসহ দেশ ছেড়ে সীমান্তের ওপারে (ভারতে) আশ্রয় নিয়েছেন-এমন গুঞ্জন রয়েছে।

তার বিরুদ্ধে হওয়া হত্যা মামলার এক বছরেও তদন্ত শেষ না হওয়ায় আইনি ব্যবস্থা নিতে দ্বিধায় রয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোর মধ্যে এ নিয়ে টানাপোড়েনও চলছে। স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন শিরীন শারমিন। দেশের ইতিহাসে দীর্ঘ সময় ধরে (চার মেয়াদ) স্পিকারের আসনে থেকে তিনি হত্যা, গুম, দুর্নীতিসহ হাসিনার সব অপকর্মের বৈধতা দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশনা পেলে গ্রেপ্তারসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

হত্যা মামলার তদন্ত শেষ না হওয়ার জন্য তারা সরকারের নীতিনির্ধারকদের দুষছেন। পাশাপাশি কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিলের পর গোপনে শিরীন শারমিনকে সাধারণ পাসপোর্ট দেওয়ার প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে না পারার ব্যর্থতাও স্বীকার করেছেন কর্মকর্তারা। এ বিষয়েও সরকারের সিদ্ধান্তহীনতার কথা জানালেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তারা।

অপরদিকে আইন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শিরীন শারমিনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলাসহ দুটি সুনির্দিষ্ট মামলা হয়েছে। আদালত মামলা তদন্তের আদেশ দিয়েছে। তদন্তের পিুরো দায়ভার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। তদন্ত শেষ হলেই আদালত পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে। এখানে আইন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গৌণ।

দেশে না বিদেশে-নিশ্চিত নয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

শিরীন শারমিন কোথায়-এ প্রশ্ন ছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার কাছে। আমার দেশকে তিনি বলেন, সাবেক স্পিকারের বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো অফিসিয়াল তথ্য নেই। তবে যতটুকু জানি তিনি ঢাকাতেই তার ভাইয়ের বাসায় স্বামীকে নিয়ে বসবাস করছেন। তার বিষয়ে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। আবার কেউ কেউ বলছেন, পাসপোর্ট ছাড়াই তিনি স্থলপথে সীমান্তের ওপারে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। এখনো তার বিষয়ে আমরা কোনো ধরনের নির্দেশ পাইনি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিনের বিষয়টি নীতিনির্ধারক পর্যায়ের। উপর থেকে নির্দেশনা এলে অবশ্যই তার আলোকে কার্যক্রম শুরু করব। তার বিষয়ে আদালতের কোনো পরোয়ানা বা নির্দেশ পেলে অবশ্যই আমরা তা বাস্তবায়নে প্রস্তুত।

শিরীন শারমিনের বিষয়ে সরকারের দুটি গোয়েন্দা সংস্থা ও একটি তদন্ত সংস্থার প্রধানের সঙ্গে কথা বলে আমার দেশ। ঢাকার একটি সুরক্ষিত এলাকায় ভাইয়ের বাসায় স্বামী ও ছোট ছেলেকে নিয়ে তিনি বসবাস করছেন বলে দাবি করেন একটি গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা। তবে সরকারের পক্ষ থেকে তার বিষয়ে কোনো ধরনের নির্দেশনা নেই বলে জানান তিনি।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের প্রথম দিকে শিরীন শারমিন রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকায় অবস্থান করছিলেন। ওই সময় তাকে একবার গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরে অজ্ঞাত কারণে গ্রেপ্তার করা হয়নি। বিষয়টি জানার পর নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেন হাসিনার ফ্যাসিবাদী সরকারের অন্যতম সুবিধাভোগী ‘পুতুল সংসদের’ এই স্পিকার।

ছয় মাস আগে তিনি নিজের ঠিকানা পাল্টে রাজধানীর একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত স্থানে নিকটাত্মীয়ের বাসায় চলে যান। সেখানে অবস্থান করে তিনি নতুন পাসপোর্টের জন্য আঙুলের ছাপ ও ছবি দেন। ওই কাজে তাকে পাসপোর্ট অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তা সহযোগিতা করেন।

আত্মগোপনে আছেন এবং আত্মগোপনে থাকা অবস্থায়ই শিরীন শারমিন নতুন সাধারণ ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করে আঙুলের ছাপ এবং আইরিস দেন বলেও নিশ্চিত হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন শাখা। ধানমন্ডির যে ঠিকানা দিয়ে পাসপোর্ট করতে চেয়েছিলেন, সেখানেও তিনি অবস্থান করছেন না বলে সরকারের গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে।

প্রতিবেশী দেশে পালিয়ে যাওয়ার গুঞ্জন

অপর একটি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে শিরীন শারমিনের বিষয়ে জানতে লিখিতভাবে প্রশ্ন দেওয়া হয়েছিল আমার দেশ-এর পক্ষ থেকে। সংস্থাটি আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে তথ্য দিতে অসম্মতি জানিয়েছে। তবে সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা আমার দেশকে বলেন, ‘কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিলের পর শিরীন শারমিন সাধারণ পাসপোর্ট নেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। এরপর পুরোপুরি আত্মগোপনে চলে যান। আমাদের কাছে যতটুকু তথ্য আছে, তিনি এখন দেশে নেই। স্থলপথে পার্শ্ববর্তী দেশে অবৈধভাবে পাড়ি জমিয়েছেন বলে শুনেছি।’

গোয়েন্দা কর্মকর্তার এমন বক্তব্যের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

হত্যা মামলার আসামি, এগোয়নি তদন্ত

শিরীন শারমিনের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি আমলী আদালতে একটি হত্যা মামলা করেন দিলরুবা আক্তার। মামলার আরজিতে তিনি উল্লেখ করেন, সাবেক স্পিকার ও এলাকার সংসদ সদস্য শিরীন শারমিনের নির্দেশে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা তার স্বামী মুসলিম উদ্দিনকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। মুসলিম উদ্দিন ছিলেন স্বর্ণ ব্যবসায়ী আর শিরীন শারমিন ওই এলাকার ভোটারবিহীন নির্বাচনে তিনবারের সংসদ সদস্য ছিলেন।

মামলার আরজিতে আরো বলা হয়, ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সিটি বাজার এলাকায় পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে ছাত্র-জনতার সংঘর্ষ হয়। সেখানে মুসলিম উদ্দিনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।

মামলার সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে বাদী দিলরুবা আক্তার আমার দেশকে বলেন, আমার স্বামীকে হত্যার ঘটনায় আমি সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে মামলা করেছি। মামলায় সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিনকে আসামি করা হয়েছে। হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে রংপুরে যে আন্দোলন হয়, শিরীন শারমিন তা দমন করতে আওয়ামী লীগ ও পুলিশকে নির্দেশনা দিয়েছিলেন।

ক্ষোভ প্রকাশ করে দিলরুবা জানান, শুনেছি শিরীন শারমিন ঢাকায় আছেন। কিন্তু পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। মামলাটি তদন্তের জন্য সিআইডিতে দেওয়া হলেও কেউ আমার সঙ্গে এখনো যোগাযোগ করেনি। মামলার তদন্ত হচ্ছে কি না, সে বিষয়েও কিছু বলতে পারছি না। আমি বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেও কোনো তথ্য পাইনি। আমি আমার স্বামীর হত্যার বিচার চাই। বিচার করতে এ সরকার ব্যর্থ হলে আমি কোথায় গিয়ে বিচার পাব?

মামলার তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে সিআইডির ইন্সপেক্টর সামিউল আলম আমার দেশকে জানান, সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিনসহ বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার নামে করা দিলরুবা বেগমের মামলাটি সিআইডির পক্ষ থেকে আমি তদন্ত করছি। তদন্ত অনেকদূর এগিয়েছে। আশা করি দ্রুত কোর্টে চার্জশিট দাখিল করা সম্ভব হবে। তবে মামলায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

হাসিনার আস্থায় চার মেয়াদের স্পিকার

হাসিনার নির্দেশের যথাযথ প্রতিপালন করে টানা চারবার স্পিকারের আসনে বসতে পেরেছেন নোয়াখালীর মেয়ে ড. শিরীন শারমিন। হাসিনা ১৫ বছরে যত অপরাধ করেছেন তার আইনি অনুমোদন দিয়ে সমান অপরাধ করেছেন তিনিও। এমনটিই মনে করছেন নোয়াখালীর আরেক সন্তান এবং সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার খোকন আমার দেশকে বলেন, শিরীন শারমিন আমাদের আইনজীবী সমিতির সদস্য ছিলেন। জাতীয় সংসদের দীর্ঘ সময়ের স্পিকার হিসেবে হাসিনার সব অপশাসনের বৈধতা দিয়েছেন। তিনি এখন একটি হত্যা মামলার আসামি। আশা করব আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করবেন। আত্মগোপনে থেকে কিংবা পালিয়ে গিয়ে তিনি আইনকে অশ্রদ্ধা করছেন।

শিরীন শারমিনের সহকর্মী আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তিনি (শিরীন শারমিন) বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আমিরুল ইসলামের জুনিয়র হিসেবে কাজ করেছেন। আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। ২০০৯ সালে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য হিসেবে জাতীয় সংসদে আসেন শিরীন শারমিন। মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে ২০১৩ সালে ৩০ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রথম নারী স্পিকার নির্বাচিত হন তিনি। নবম জাতীয় সংসদের অবশিষ্ট মেয়াদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। দেশের ইতিহাসে সংরক্ষিত আসন থেকে তিনিই প্রথম স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন।

প্রার্থী ও ভোটারবিহীন ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে তিনি নিজ এলাকা নোয়াখালী কিংবা দেশের অন্য কোনো আসন থেকে নির্বাচন করেননি। ওই নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা তার ছেড়ে দেওয়া রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসন থেকে শিরীন শারমিনকে উপনির্বাচনে বিজয়ী করে আনেন।

সূত্র জানিয়েছে, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন ও সংসদ গঠনের আগেই একই দিনে শিরীন শারমিনের প্রার্থিতা বাছাই, বিজয়ী ঘোষণা ও প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন। পরদিন তিনি ডেপুটি স্পিকারের কাছে শপথ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো স্পিকারের আসনে বসেন। ওই উপনির্বাচনে দ্বিতীয় কাউকে প্রার্থী হতে দেওয়া হয়নি বলেও ওই সময় অভিযোগ ওঠে।

রাতের ভোট হিসেবে পরিচিতি পাওয়া ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুরের একই আসন থেকে শিরীন শারমিন আবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তৃতীয়বারের মতো স্পিকারের দায়িত্ব নেন। ২০২৪ সালের ডামি ভোট হিসেবে খ্যাত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য হয়ে চতুর্থবারের মতো স্পিকারের দায়িত্ব পান তিনি।

হাসিনা পালালেও পদ আঁকড়ে থাকার চেষ্টা

গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণভবন থেকে হাসিনা পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার সময়ও শিরীন শারমিন জাতীয় সংসদে নিজ দপ্তরে ছিলেন বলে জানা গেছে। প্রধান বিচারপতিসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিতরা পদত্যাগ করলেও তিনি পদ আঁকড়ে থাকার চেষ্টা করেন।

শেষ পর্যন্ত হাসিনার পলায়নের ২৭ দিনের মাথায় অর্থাৎ ২ সেপ্টেম্বর অজ্ঞাত স্থান থেকে বাহকের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান শিরীন শারমিন। রাষ্ট্রপতি ওই দিনই তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান অনুসারে রাষ্ট্রপতির কাছে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্পিকারের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। তার পদত্যাগপত্রটি রাষ্ট্রপতি গ্রহণ করেছেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে তা কার্যকর হয়েছে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

হাসিনা পালিয়ে যাবেন-এটা বিশ্বাসই করতেন না

স্পিকারের কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন এমন এক কর্মকর্তা আমার দেশকে জানান, ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে সাড়ে ১৫ বছরের স্বৈরশাসক হাসিনা দেশ ছেড়ে পালানোর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত শিরীন শারমিন জাতীয় সংসদ ভবন এলাকার বাসভবনেই ছিলেন। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাবেন কিংবা পালাতে পারেনÑএমনটা কখনোই বিশ্বাস করতেন না তিনি। দুপুরের দিকে পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হয়ে উঠলেও তাকে বিচলিত দেখা যায়নি। ওই দিনও তিনি সংসদ ভবনের পশ্চিম পাশের লেকপাড়ের বাসায় বসে দাপ্তরিক কাজ করেন এবং কিছু জরুরি ফাইলে সই করেন।

সংসদ এলাকা থেকে স্পিকারের পলায়নের বর্ণনা দিয়ে ওই কর্মকর্তা জানান, দুপুরের পর হাজার হাজার ছাত্র-জনতা গণভবন ও সংসদ ভবন অভিমুখে রওনা হওয়ার তথ্য তাকে জানানো হয়। এর পরই তিনি তড়িঘড়ি করে গানম্যান ও প্রটোকল রেখে ব্যক্তিগত গাড়িতে চড়ে সংসদ এলাকা ত্যাগ করেন। ১২ বছরের আবাসন ত্যাগ করার সময় ওই গাড়িতে স্বামী সৈয়দ ইশতিয়াক হোসাইন ও ছোট ছেলে সঙ্গে ছিলেন।

গোপনে পাসপোর্ট নেওয়ার চেষ্টা

অন্তর্বর্তী সরকার ৫ আগস্টের পর শিরীন শারমিনসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিশেষ পাসপোর্ট বাতিল করে। এর পরপরই তিনি বিকল্প উপায়ে পাসপোর্ট নেওয়ার চেষ্টা করেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট শাখার এক কর্মকর্তা আমার দেশকে বলেন, আমাদের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী গত বছরের ৩ অক্টোবর সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন ও তার স্বামী সৈয়দ ইশতিয়াক অনলাইনে ঢাকার আগারগাঁওয়ে পাসপোর্ট অফিসে সাধারণ ই-পাসপোর্ট পেতে আবেদন করেন। তারা রাজধানীর ধানমন্ডির ১৬ নম্বর সড়কের একটি বাড়ির ৪-ই নম্বর ফ্ল্যাটকে ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার করলেও অজ্ঞাত স্থান থেকে আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিসের ছবি দেন। এসব কাজ অতিগোপনে সম্পন্ন হয়।

নতুন পাসপোর্টের আবেদন বাতিল করা হয়েছে জানিয়ে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট শাখার ওই কর্মকর্তা জানান, অজ্ঞাত স্থান থেকে আবেদন করে পাসপোর্ট অফিসে না গিয়ে আঙুলের ছাপ ও ছবি দিয়ে ই-পাসপোর্ট পাওয়ার জন্য শিরীন শারমিন ও তার স্বামীর অনলাইনে করা আবেদন আমরা বাতিল করে দিয়েছি। ওই আবেদনের ভিত্তিতে তারা পাসপোর্ট পাবেন না। তবে এর সঙ্গে অবশ্যই পাসপোর্ট অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা জড়িত। তাদের চিহ্নিত করতে আমরা কাজ করছি।

যা বলছে আইন মন্ত্রণালয়

হত্যা মামলার আসামি হয়েও শিরীন শারমিনের গ্রেপ্তার না হওয়া প্রসঙ্গে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করে আমার দেশ। তার দপ্তর থেকে জানানো হয়, বিষয়টি এখন আদালত ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারাধীন। আদালত তদন্তের আদেশ দিয়েছে। তদন্ত কার্যক্রম শেষে প্রতিবেদন পেশ করা হলে আদালত পরবর্তী আদেশ দেবে। এখানে আইন মন্ত্রণালয়ের কোনো ভূমিকা নেই।

আইন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা আমার দেশকে বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে যেসব হত্যা মামলা করা হয়, সেগুলোর বিষয়ে সরকারের বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে। এ বিষয়ে সম্প্রতি একটি প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্দেশে সংঘটিত হত্যার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার (আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলা ব্যতীত) বিচার হবে দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে।

এছাড়া হত্যাসহ অপরাপর গুরুতর অপরাধের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার প্রসিকিউশনের কার্যক্রম সুষ্ঠু ও গতিশীল করার লক্ষ্যে কাজ করবে বিশেষ কমিটি। এ ধরনের মামলার মধ্যে যেসব মামলায় চার্জশিট দাখিল হয়েছে, সেসব মামলায় প্রসিকিউশনের কার্যক্রম পরিচালনায় বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করবে এবং উক্ত সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে কমিটি প্রয়োজনীয় সুপারিশ সরকারের নিকট প্রেরণ করবে।’

শিরীন শারমিনের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সদস্য মো. শহিদ উল্লাহ আমার দেশকে বলেন, সাবেক স্পিকারের বিষয়ে আমরা লিখিতভাবে কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনব।

জাতীয়

হাদি হ/ত্যা/য় জড়িত প্রত্যেকের নাম উন্মোচন করে দেবো : ডিএমপি কমিশনার

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তির নাম ও ঠিকানা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শেখ মো. সাজ্জাত আলী। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে তিনি এ কথা বলেন। ডিএমপি কমিশনার বলেন, এই হত্যাকাণ্ড একটি রহস্যজনক ঘটনা এবং এর পেছনে একাধিক ব্যক্তি জড়িত […]

হাদি হ/ত্যা/য় জড়িত প্রত্যেকের নাম উন্মোচন করে দেবো : ডিএমপি কমিশনার

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০১:৩৬

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তির নাম ও ঠিকানা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শেখ মো. সাজ্জাত আলী।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, এই হত্যাকাণ্ড একটি রহস্যজনক ঘটনা এবং এর পেছনে একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। এ পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং হত্যার মূল পরিকল্পনাকারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে শনাক্ত করতে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে যারা রয়েছেন, তাদের প্রত্যেকের পরিচয় জনসম্মুখে আনা হবে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, হাদিকে গুলির ঘটনায় ব্যবহৃত দুটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ত্রগুলো বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার জন্য সিআইডি-তে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ডিবি পুলিশ উদ্ধার করেছে।

হত্যাকাণ্ডে বিপুল অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি উল্লেখ করে ডিএমপি কমিশনার জানান, তদন্তে ২১৮ কোটি টাকার সই করা একটি চেক উদ্ধার করা হয়েছে, যা ঘটনার অর্থনৈতিক যোগসূত্র বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

তিনি বলেন, আগামী ১০ দিনের মধ্যে, অর্থাৎ ৭ জানুয়ারির মধ্যেই এ মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হবে।

এ সময় তথ্য ও সম্প্রচার; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানসহ ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

হাদির হত্যার বিচার দাবিতে শনিবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো শাহবাগে অবরোধ কর্মসূচি পালন করে ইনকিলাব মঞ্চ। এর আগে শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) জুমার নামাজের পর ইনকিলাব মঞ্চ ও জুলাই মঞ্চের নেতাকর্মীসহ সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শাহবাগ মোড়ে এসে অবস্থান নেন। অবস্থান কর্মসূচি শুরু হলে এতে সমাজের নানা স্তরের মানুষের অংশগ্রহণ দেখা যায়।

জাতীয়

বেরিয়ে এলো ওসমান হাদি হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ডের নাম সামনে এসেছে। হত্যার নেপথ্যে ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’র নাম উঠে এসেছে। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, কিলিং মিশন বাস্তবায়নে অর্থ এবং অস্ত্রের জোগানদাতা ছিলেন তিনি নিজেই। এছাড়া চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডে শাহীন চেয়ারম্যানের সহযোগী হিসাবে আরও কয়েকজনের যোগসূত্রতা […]

বেরিয়ে এলো ওসমান হাদি হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য

বেরিয়ে এলো ওসমান হাদি হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য

নিউজ ডেস্ক

২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:০৭

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ডের নাম সামনে এসেছে। হত্যার নেপথ্যে ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’র নাম উঠে এসেছে।

গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, কিলিং মিশন বাস্তবায়নে অর্থ এবং অস্ত্রের জোগানদাতা ছিলেন তিনি নিজেই। এছাড়া চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডে শাহীন চেয়ারম্যানের সহযোগী হিসাবে আরও কয়েকজনের যোগসূত্রতা জানতে পেরেছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা। যাদের কয়েকজন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা। এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্বশীল একটি সূত্র।

সূত্র জানায়, শাহীন চেয়ারম্যান ছাড়াও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদকে হন্যে হয়ে খুঁজছে পুলিশ। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী হাদির ওপর হামলার পর ঘাতকদের ঢাকা থেকে সীমান্ত পর্যন্ত পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন এই হামিদ। জুলাই বিপ্লবে শরিফ ওসমান হাদির ভূমিকা এবং গত বছর ৫ আগস্টের পর থেকে তার বিভিন্ন বক্তব্য ও সামগ্রিক কর্মকাণ্ডে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ চরম ক্ষুব্ধ ছিল। দলটি হাদিকে আওয়ামী লীগ এবং তাদের দোসরদের জন্য বড় বিপদ হিসাবে চিহ্নিত করে। এরপর হিটলিস্টের প্রথম টার্গেট হিসাবে হাদিকে হত্যার ছক কষা হয়।

জানা যায়, শাহীন আহমেদ দীর্ঘদিন ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। তবে তিনি মাফিয়া ডন হিসাবেই বেশি পরিচিত। শেখ হাসিনা আমলে তিনি ছিলেন সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ডানহাত। চিহ্নিত সন্ত্রাসী এবং অস্ত্রধারী হিসাবে তার নাম পুলিশের খাতায় অনেক আগে থেকে তালিকাভুক্ত ছিল। বহুবিধ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকলেও তিনি ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। বরং প্রশাসন তাকে সমীহ করে চলত। এসব প্রভাব প্রতিপত্তি কাজে লাগিয়ে তিনি একাধিকবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

স্থানীয়রা জানান, ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতাদের অনেকের মতো শাহীন চেয়ারম্যানও সীমান্ত পার হয়ে ভারতে চলে যেতে সক্ষম হন। সেখানে পলাতক অবস্থায় তিনি দীর্ঘদিন চুপচাপ থাকলেও গত ৩-৪ মাস থেকে খোলস ছেড়ে পুরোনো চেহারায় আবির্ভূত হন। সম্প্রতি তিনি দেশের মধ্যে আওয়ামী লীগের হিটলিস্ট প্ল্যান বাস্তবায়ন করতে বিভিন্ন অ্যাপসে মুঠোফোনে দেশে থাকা স্লিপার সেলের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন।


আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন কর্মকর্তা বলেন, কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ কল এবং খুদেবার্তার (এসএমএস) সূত্রে হাদি হত্যায় শাহীন চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। ঘটনার আগে ও পরে কিলারদের সঙ্গে পলাতক ছাত্রলীগ নেতা হামিদের একাধিকবার যোগাযোগ করার প্রমাণও মিলেছে। এছাড়া ভারতে পলাতক থাকা আরও কয়েকটি গ্রুপ অ্যাপস ব্যবহার করে ঢাকায় জড়ো স্লিপার সেলের সদস্যদের কাজ সমন্বয় করছে। যাদের অনেকে এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারির মধ্যে চলে এসেছে। কানের ডাক্তার তাহের পপুলার

সূত্র বলছে, হাদি হত্যা মামলার তদন্তে সন্দেহভাজনের তালিকায় কয়েকজন রাজনীতিকের নামও উঠে এসেছে। এ বিষয়ে আরও তথ্য উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। এজন্য গ্রেফতারকৃত আসামিদের তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং গোয়েন্দা সংস্থার টিমসহ যৌথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এছাড়া পলাতক শাহীন চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত কেরানীগঞ্জ জেলার দুজন ছাত্রলীগ নেতাকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম শুক্রবার রাতে বলেন, ‘আমরা সবদিক মাথায় রেখে তদন্ত করছি। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মামলাটির তদন্ত করা হচ্ছে। আশা করি খুব শিগগিরই এ ঘটনার মাস্টারমাইন্ডসহ পরিকল্পনাকারীদের সবার নামই জানা সম্ভব হবে।’

জাতীয়

ফয়সালের জামিনে যুক্ত ছিলো বড় রাজনৈতিক দলের নেতার প্রভাবশালী আইনজীবীরা : আইন উপদেষ্টা

ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় জড়িত ফয়সাল করিম মাসুদ ইতিপূর্বে অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর জামিনে মুক্ত হওয়ার বিষয়ে মুখ খুলেছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) রাত ১১টা ২৭ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ বিষয়ে একটি দীর্ঘ পোস্ট দেন। আইন উপদেষ্টা ড. […]

নিউজ ডেস্ক

১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:৪৮

ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় জড়িত ফয়সাল করিম মাসুদ ইতিপূর্বে অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর জামিনে মুক্ত হওয়ার বিষয়ে মুখ খুলেছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) রাত ১১টা ২৭ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ বিষয়ে একটি দীর্ঘ পোস্ট দেন।

আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের ‘জামিন বিতর্ক’ শীর্ষক ফেসবুক স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হলো—

আমাদের প্রিয় ওসমান হাদিকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলিবর্ষণ করেছে ফয়সাল করিম মাসুদ নামের এক ছাত্রলীগ সন্ত্রাসী। তাকে র‍্যাব গ্রেপ্তার করেছিল গত বছর। এরপর তার জামিন হয়েছে হাইকোর্ট থেকে। এই প্রসঙ্গে, জামিন দেওয়ার ন্যয্যতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আবারও আলোচনা-বিতর্ক উঠছে।

প্রথমেই বলে রাখি, হাইকোর্ট বিচারিক কাজে স্বাধীন একটি প্রতিষ্ঠান। হাইকোর্টের ওপর আইন মন্ত্রণালয়ের কোনো নিয়ন্ত্রণ পৃথিবীর কোনো দেশে থাকে না, বাংলাদেশেও নেই। কাজেই সেখানে ফয়সাল করিম মাসুদের জামিন হওয়ার সঙ্গে আইন মন্ত্রণালয়ের কোনো সম্পর্ক ছিল না।

ফয়সাল করিম মাসুদ গত বছর জামিন পেয়েছিল অস্ত্র মামলায়। হাইকোর্টে অস্ত্র মামলার জামিন সহজে হওয়ার কথা নয়। এটি তখনই হতে পারে যখন প্রভাবশালী আইনজীবীরা এসব মামলায় জামিন দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নেন। এই আইনজীবীরা অধিকাংশই বড় রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা। অভিযোগ রয়েছে, তাদের প্রভাবে এসব জামিন হওয়া সহজতর হয়।

হাইকোর্টের প্রদত্ত জামিনে বিচারিক বিবেচনা কতটা থাকে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশ থাকে। যেমন : হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে কীভাবে চার ঘণ্টায় ৮০০ মামলায় জামিন হয়েছিল, তা নিয়ে আমি কয়েক মাস আগে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছিলাম (২৩ অক্টোবর, ২০২৫)। এজন্য এক শ্রেণীর আইনজীবীদের পক্ষ থেকে আমার পদত্যাগ পর্যন্ত দাবি করা হয়েছিল (২৫ অক্টোবর ২০২৫)।

২. জামিন পাওয়ার সুযোগ আমাদের আইনে রয়েছে। কিন্তু গুরুতর অপরাধের সঙ্গে যে অপরাধীর সংযোগ অত্যন্ত স্পষ্ট, যে অপরাধী চিহ্নিত সন্ত্রাসী এবং যে ব্যক্তি জামিন পেলে পুনরায় অপরাধ করতে পারে বা অন্য কারও জীবন বিপন্ন করতে পারে, তাকে জামিন দেওয়া অস্বাভাবিক ও অসঙ্গত। এ নিয়ে আমি প্রকাশ্যে বলেছি। মাননীয় প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা হওয়ার সময় উনার কাছে উচ্চ আদালতে অস্বাভাবিক জামিন নিয়ে আমার উদ্বেগের কথা জানিয়েছিলাম।

কিছু জামিন নিম্ন আদালত থেকেও হয়েছে গত ১৬ মাসে। আমরা সেসব মামলার কাগজপত্র পরীক্ষা করে দেখেছি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব মামলায় আসামি কীভাবে অপরাধটিতে জড়িত, পুলিশ তার কোনো তথ্য অভিযোগপত্রে দেয়নি, এমনকি আসামির দলীয় পরিচয় পর্যন্তও মামলার কোনো কাগজে উল্লেখ করেনি। এরপরও আমি যথাযথ বিচারিক বিবেচনা না করে যেনতেনভাবে জামিন না প্রদান করার কথা বলেছি (১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫)। কিছু ক্ষেত্রে যথাযথ ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে।

৩. জামিন বাণিজ্যে যারা লিপ্ত আছেন, তাদেরকে বলছি—এবার থামুন। আমাদের ছেলেদের জীবন বিপন্ন করার মতো সিদ্ধান্ত দেবেন না। এক গণহত্যাকারী পাশের দেশে বসে আমাদের জুলাই বীরদের হত্যা করার হুমকি দিচ্ছে। বিচারিক বিবেচনার বাইরে গিয়ে জামিন দিয়ে সেই গণহত্যাকারীর অনুসারীদের এই সুযোগ করে দেবেন না। না হলে, পরকালেও এর দায় আপনাদের নিতে হবে।