বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “যত শতাংশ মানুষ বিদেশে বসবাস করে, সংসদে তত শতাংশ প্রবাসীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হবে।” তিনি বলেন, “আমরা তাঁদের বলি রেমিট্যান্স যোদ্ধা। কিন্তু তাদের প্রাপ্য সম্মান কেউ দেয় না। সরকার শুধু বায়বীয় শব্দ দিয়ে প্রবাসীদের শান্ত রাখতে চায়, অথচ তাঁদের জাতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের অংশীদার বানানো হয়নি।”
স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের বাফেলোতে বাংলাদেশ-আমেরিকান কমিউনিটি বাফেলো আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক নুরুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামী যুক্তরাষ্ট্রের মুখপাত্র অধ্যাপক ড. নাকীবুর রহমান, ঢাকা-১৭ আসনের এমপি প্রার্থী ডা. খালিদুজ্জামান। এছাড়া অধ্যাপক ড. ইকবাল হোসাইন ও ব্যবসায়ী তালহা বকসসহ প্রবাসী বাংলাদেশিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
প্রবাসীদের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, “আপনারা নিজের ভোটটা নিশ্চিত করুন এবং অন্যদের ভোট নিশ্চিত করতে সহযোগিতা করুন। এটা শুধু ভোট নয়, ইনশাআল্লাহ এটি হবে আপনাদের হাতে ‘ভেটো পাওয়ার’। তখন আপনারা যেই অধিকার দাবি করবেন, তা দিতে সরকার বাধ্য থাকবে।”
তিনি বলেন, “আমরা যদি দেশ পরিচালনার সুযোগ পাই, প্রথমেই শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারে অগ্রাধিকার দেব। বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা ভাঙাচোরা ও অপ্রয়োজনীয়। আমরা এমন শিক্ষা দিতে চাই যা মানুষকে মানুষ বানাবে, নাগরিককে দেশ গড়ার কারিগর করবে। যাতে সার্টিফিকেট হাতে নিয়েই শিক্ষার্থীরা চাকরি বা উদ্যোক্তা হওয়ার মতো যোগ্যতা অর্জন করে।”
দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তিনি বলেন, “আমরা দুর্নীতির জট উপড়ে ফেলতে চাই। ক্ষমতায় না গেলেও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চলবে। দেশে ন্যায়বিচার ফিরিয়ে আনতে হবে। আইন অপরাধকে দেখবে, অপরাধীকে নয়। যে পাল্লা ন্যায়বিচারের প্রতীক, সেটি কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে—আমরা সেই পাল্লা ধরে রাখব।”
রাষ্ট্র ও জাতির মর্যাদা নিয়ে তিনি বলেন, “আমরা দেশ হিসেবে মর্যাদার সঙ্গে থাকতে চাই। কাউকে প্রভু মানব না, কারণ আমাদের প্রভু একমাত্র আল্লাহ। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতেই আন্তর্জাতিক সম্পর্ক গড়ে তুলব। দেশের অর্থনীতিকে লুটপাট করে ফোকলা করে ফেলা হয়েছে। সততা, সদিচ্ছা ও কঠোর পরিশ্রম থাকলে এই রুগ্ণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা সম্ভব।”
নারী ও সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে জামায়াত আমির বলেন, “আমরা মেয়েদের মা হিসেবে সম্মান দেব, সভ্যতার মিছিলে তাঁরা নেতৃত্ব দেবেন। ভিন্ন ধর্মাবলম্বীরাও সম্মান ও নিরাপত্তা পাবেন। আমরা সত্যিকারের কল্যাণ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই।”
ডা. শফিকুর রহমান ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের রাজনৈতিক সহিংসতা ও ২০২৪ সালের ২৪ জুলাইয়ের বিপ্লবের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “চব্বিশের জুলাইয়ের বিপ্লবের মধ্য দিয়ে আল্লাহ এই জাতিকে গজব ও লানত থেকে রক্ষা করেছেন। প্রবাসীরাও তখন আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছিলেন—রেমিট্যান্স বন্ধ করে জালিম সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন।”
অনুষ্ঠানে প্রবাসীরা স্থায়ী কনস্যুলেট স্থাপন, এনআইডি নিবন্ধনের সময়সীমা বৃদ্ধি, বৈধ নাগরিকত্ব যাচাইয়ে পুলিশ ভেরিফিকেশন বন্ধ ও বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। এসব দাবির প্রতি একমত পোষণ করে জামায়াত আমির বলেন, “আমরা ক্ষমতায় যাই বা না যাই, প্রবাসীদের এই ন্যায্য দাবিগুলোর বাস্তবায়নে সর্বাত্মক চেষ্টা করব। আর যদি দেশ পরিচালনার সুযোগ পাই, ইনশাআল্লাহ এই দাবিগুলো পূরণ করে প্রতিটি প্রবাসীর পাশে দাঁড়াব।”