মোঃ হাসনাইন আহম্মেদ, ভোলা:
ভোলায় খাবারের সঙ্গে নেশাদ্রব্য মিশিয়ে এক সাংবাদিকের বাসায় চুরির চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অচেতন অবস্থায় ওই পরিবারের দুই সদস্যকে উদ্ধার করে ভোলা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) দিবাগত রাতে উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের দক্ষিণ চরপাতা গ্রামের সাংবাদিক ইব্রাহিম আকতার আকাশের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
সাংবাদিক ইব্রাহিম আকতার আকাশ ঢাকা মেইল ও ডেইলি সান এর ভোলা জেলা প্রতিনিধি এবং চ্যানেল ভোলার হেড অব নিউজ। ঘটনার সময় তিনি নিজের ব্যক্তিগত কাজে বরিশালে অবস্থান করেছিলেন। এসময় ঘরে তার মা-বাবা, দুই বোন ও ভগ্নিপতি ছিলেন।
সাংবাদিক ইব্রাহিম আকতার আকাশ জানান, প্রতিদিনের মতো শুক্রবার রাতে তার মা ফাতিমা বেগম নিজ বাসায় খাবার খান। এর কিছুক্ষণ পর তিনি অসুস্থ বোধ করেন এবং অচেতন হয়ে পড়েন। ঘরে থাকা অন্য সদস্যরা শারিরীকভাবে অসুস্থ ভেবে তেমন গুরুত্ব দেননি।
এরপর রাত সাড়ে ১১ টার দিকে তার ভগ্নিপতি জহিরুল ইসলাম কাজ শেষে বাড়িতে এসে খাবার খেলে তিনিও ১২ টার দিকে অচেতন হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়ভাবে তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তাতেও কোন উন্নতি না হলে সকালে তাদের দুজনকে উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ধারণা করা হচ্ছে, বাসায় চুরি করার উদ্দেশ্য আগে থেকে ওঁৎ পেতে যে কেউ খাবারের সঙ্গে নেশাদ্রব্য মিশিয়ে দিয়েছেন। তবে পরিবারের বাকী সদস্যরা খাবার না খাওয়ায় চোর চক্রের চুরি করা সম্ভব হয়নি।
সাংবাদিক ইব্রাহিম আকতার আকাশের বাবা রফিকুল ইসলাম জানান, রাতে খাবার খাওয়ার পর তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম অসুস্থ হয়ে পড়েন, তখন ধারণা করেছেন হয়তো শারীরিক কোন সমস্যায় তিনি অসুস্থ হয়েছেন।
এরপর যখন তার মেয়ের জামাই ভাত খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন তখন তাদের সন্দেহ হয়। এরপর ঘরে থাকা খাবারের কিছু অংশ বিড়ালকে খাওয়ালে দুটি বিড়ালও অসুস্থ হয়ে পড়েন।
ভোলা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাক্তার সামছুল আলম জানান, খাবারের সঙ্গে নেশা জাতীয় কিছু মেশানো ছিল বলে আমরা ধারণা করছি। তাদের চিকিৎসা চলছে এবং দু’জনই আশংকা মুক্ত আছেন। আশা করি কিছু সময় পর তাদের জ্ঞান ফিরবে।
ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু শাহাদাৎ হাচনাইন পারভেজ জানান, খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা এখনও লিখিত অভিযোগ দেননি। তাদের অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ছবি- অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে সাংবাদিকের মা ফাতেমা বেগম ও ভগ্নিপতি জহিরুল ইসলাম।