আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পুত্র ও আল্লামা সাঈদী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শামীম সাঈদী বলেছেন, “আমার পিতা কুরআনের পাখি আল্লামা সাঈদীকে সারা দেশের মানুষ ভালোবাসতেন শুধুমাত্র কুরআনের দাওয়াতের জন্য। তাঁর একমাত্র অপরাধ ছিল—মানুষের ঘরে ঘরে কুরআনের আহ্বান পৌঁছে দেওয়া।”
তিনি অভিযোগ করেন, “১৩ বছর ধরে তিনি কারাবন্দি ছিলেন, সহ্য করেছেন অমানবিক নির্যাতন। তবুও হাসিমুখে থেকেছেন, কুরআনের বাণী প্রচার করেছেন। শেষ পর্যন্ত তাঁকে হাসপাতালে হত্যা করা হয়েছে। এখন সেই হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার সময় এসেছে।”
শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) সকালে ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলা ও পৌর জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
শামীম সাঈদী বলেন, “আগামী নির্বাচন কোনো সাধারণ নির্বাচন নয়। এটি হবে ভারতের আগ্রাসন থেকে মুক্ত হওয়ার লড়াই, হবে ইসলাম ও স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধ। এই যুদ্ধে পরাজয়ের কোনো সুযোগ নেই। বাংলাদেশের মানুষ এখন চায় কল্যাণমুখী ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা।”
তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “পাড়া-মহল্লায় দাঁড়িপাল্লার গণজোয়ার তুলতে হবে। আগামী দিনের ভোট হবে ইনসাফ ও ইসলামের পক্ষে রায়।”
গত ১৬ বছরের শাসনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “এই সময়ে দেশের ২৮ লাখ কোটি টাকা চুরি করে ভারত নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তরুণ প্রজন্মকে মাদক ধরিয়ে ঘুমে রাখা হয়েছিল।
কিন্তু সেই যুবকরাই এখন জেগে উঠেছে। ছাত্ররা মাঠে নেমেছে। কালো মেঘ সরে যাচ্ছে, আলো ছড়িয়ে পড়ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সারা দেশে। ইসলামের পতাকা উঠবেই ইনশাআল্লাহ।”
তিনি আসন্ন সংসদ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
ছাগলনাইয়া উপজেলা জামায়াতের আমির কেএম আজাদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন—ফেনী-১ আসনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট এসএম কামাল উদ্দিন, জেলা জামায়াতের আমির মুফতি আবদুল হান্নান,
নায়েবে আমির অধ্যাপক আবু ইউসুফ, উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী মুজিবুর রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মোহাম্মদ ইলিয়াস, পৌর মেয়র প্রার্থী পেয়ার আহাম্মদ মজুমদার ও উপজেলা সেক্রেটারি মোহাম্মদ জাফর আহাম্মদ মোল্লা।