“রাষ্ট্র কোনো আবেগ বা ইমোশন দিয়ে চলে না; রাষ্ট্র চলে আইন, সংবিধান ও নীতির ভিত্তিতে”—এ মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।
বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব) আয়োজিত ‘চব্বিশের বাংলাদেশে তারুণ্যের ভাবনা: শিক্ষা ও কর্মসংস্থান’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে চলমান বিতর্কের প্রেক্ষাপটে সালাহউদ্দিন বলেন, “অনেকে বলছেন মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা চাইলে এখনই একটি আদেশ জারি করে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে পারেন। কিন্তু এটা বৈপ্লবিক বা আবেগপ্রসূত চিন্তা। রাষ্ট্র কোনো ইমোশনের ওপরে চলে না, বরং চলে আইন ও সংবিধানের কাঠামোর মধ্য দিয়ে।”
তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, “সরকারের পক্ষে আইন জারি করার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে, প্রধান উপদেষ্টার নয়। সংবিধানের আর্টিকেল ১৫২ অনুযায়ী রাষ্ট্রের আইন প্রণয়নের ক্রমানুসারে প্রথমে সংবিধান, তারপর জাতীয় আইন, এরপর অধ্যাদেশ ও আদেশ।” তিনি মনে করেন, “জুলাই সনদ নিয়ে জনগণের ইচ্ছার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হলে গণভোটই হতে পারে সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পথ।”
বিএনপির এই সিনিয়র নেতা আরও বলেন, “আমরা জনগণের কাছেই যাব। জনগণ যদি জুলাই সনদের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ বলে, তাহলে সেটিই হবে বাস্তবায়নের আইনি ভিত্তি। কারণ সংবিধানের আর্টিকেল ৭ অনুযায়ী জনগণই প্রজাতন্ত্রের মালিক।”
সালাহউদ্দিন বলেন, “কিছু রাজনৈতিক দল আবেগের বশে এক্সট্রা-কনস্টিটিউশনাল অর্ডারের কথা বলছে। কিন্তু রাষ্ট্রে সিদ্ধান্ত আসে নিয়ম ও প্রক্রিয়ার মাধ্যমে, কোনো আবেগের ভিত্তিতে নয়।”
সেমিনারে অংশ নেন দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা বলেন, তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক চেতনা ও আইনি কাঠামোর প্রতি শ্রদ্ধা—একটি স্থিতিশীল রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য অপরিহার্য।