মানবতাবিরোধী অপরাধের তিন মামলায় অভিযুক্ত ১৫ সেনা কর্মকর্তা আত্মসমর্পণ নয়, বরং পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে আদালতে হাজির হয়েছেন— এমন দাবি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। বুধবার (২২ অক্টোবর) সকালে ট্রাইব্যুনালে শুনানির সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ঢাকার রামপুরায় সংঘটিত একটি হত্যা ও দুটি গুমের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এ কর্মকর্তাদের আজ আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে তাদের ঢাকা সেনানিবাসের সাবজেলে নেওয়া হয়।
প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থানার পুলিশ মঙ্গলবার রাতে অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার করে, এবং বুধবার সকালে কারা কর্তৃপক্ষ প্রিজন ভ্যানে করে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করে।
চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “আসল অপরাধীরা ভারতে পালিয়ে গেছে, আর যারা আদালতে এসেছে তারা নির্দোষ দাবি করছে। তবে আইন অনুযায়ী পুলিশই তাদের গ্রেপ্তার করেছে—এটি আত্মসমর্পণ নয়।”
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল জুলাই অভ্যুত্থানকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের তিন মামলায় আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি গ্রহণ করে। এসব মামলায় মোট ৩২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, এর মধ্যে আছেন ২৫ জন বর্তমান ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা।
এদের মধ্যে পলাতক আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, এবং র্যাবের তিন সাবেক মহাপরিচালক। দুটি গুম মামলায় অভিযুক্ত রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিক।
উল্লেখ্য, গত ৮ অক্টোবর অভিযোগপত্র আমলে নেওয়ার পর ট্রাইব্যুনাল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে এবং তা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন পুলিশ মহাপরিদর্শককে।