ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি ও কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন—
“আগামীকাল আর্মির আসামিদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা না হলে গণপ্রতিরোধের প্রস্তুতি নিন। বিএনপি-জামায়াত যদি ক্ষমতার জন্য কিলারদের সাথে আঁতাত করে, তাদেরকেও জনতার আদালতে তুলুন। লড়াই চলবে, ইনশাআল্লাহ।”

তার এই ঘোষণাটি বিচারবহির্ভূত ছলচাতুরি ও সামরিক অনুকম্পার বিরুদ্ধে গণআন্দোলনের সম্ভাব্য শাখাকে সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে। শরিফ ওসমান হাদির কথায় রয়েছে রাষ্ট্রের বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও দায়গ্রহণের জোর দাবি—যেখানে আর্মির কোনো আসামিকে উল্লেখ্যভাবে আদালতে তোলা না হলে জনগণের প্রতিরোধকে ন্যায্য হিসেবে গণ্য করা হবে। তিনি একই সঙ্গে বিএনপি ও জামায়াতের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তোলেন যে ক্ষমতার লোভে যদি তারা কিলারদের সঙ্গে আঁতাত করে তবে সেই সিন্ধান্তও জনসম্মুখে আনা হবে।
এই আহ্বান নিজে থেকেই একটি রাজনৈতিক লড়াইর রূপরেখা দাঁড় করাচ্ছে—বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা না থাকলে জনগণ নিজে থেকেই বিচারের পথ নিতে পারে, এবং সেটাই ওই আহ্বানের কেন্দ্রবিন্দু। এখন প্রশ্ন হলো, কর্তৃপক্ষ বিচারকার্যে দ্রুত ও স্বচ্ছতা বজায় রাখবে কি না; নতুবা এই ঘোষণার প্রতিফলন রাস্তায় গণবিক্ষোভ ও বৃহত্তর নাগরিক আন্দোলনে পরিণত হতে পারে।
শরিফ ওসমান হাদির এই পোস্টে যে তিনটি দাবি স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে তা হলো—আদালতসম্মুখে অভিযুক্তদের দখলকরণ, রাজনৈতিক পতনের নাম ভাঙিয়ে দায়বদ্ধদের জনসম্মুখে আনা এবং যদি সরকারি ব্যবস্থায় ন্যায্য বিচার না হয় তাহলে জনগণই নিজের অধিকার প্রতিপালনে এগিয়ে আসবে। এই বক্তব্য সরকারের জন্য একটি সর্তক বার্তা, এবং একই সঙ্গে আরেকটি রাজনৈতিক পরীক্ষানিরীক্ষা যে তারা কি আইনের পথেই শক্ত অবস্থান রাখবে নতুবা শক্তির আড়ালে শাসন চালিয়ে যাবে।