ইবি প্রতিনিধি:
গাজীপুরে হিন্দু যুবক কর্তৃক এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে অপহরণ করে তিনদিন ধরে ধর্ষণের ঘটনায় ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি)। ঘটনার নিন্দা জানিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।
শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) জুমার নামাজ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।
বিক্ষোভ মিছিলে শিক্ষার্থীরা ‘দড়ি লাগলে দড়ি নে, ধর্ষকদের ফাঁসি দে’; ‘ফাঁসি ফাঁসি চাই, ধর্ষকদের ফাঁসি চাই’, ‘আমার বোন ধর্ষিত কেন, ইন্টেরিম জবাব চাই’; ‘ধর্ষকদের কালো হাত, ভেঙে দাও, গুড়িয়ে দাও’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ধর্মতত্ত্ব অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এ বি এম ছিদ্দিকুর রহমান আশ্রাফী, আইসিটি বিভাগের অধ্যাপক ড. শরিফুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মসজিদের পেশ ইমাম আশরাফ উদ্দীন খানসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীসহ শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
কেন্দ্রীয় মসজিদের পেশ ইমাম আশরাফ উদ্দীন খান বলেন, “গাজীপুরের এই ঘটনা প্রত্যেক মুসলমানের হৃদয়কে ব্যথিত করেছে। আমরা যেমন এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাচ্ছি, তেমনি আমরা চাই এ ঘটনার সুবিচার হোক। কেননা এ ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু বিচার না হওয়ায় অপরাধীরা ছাড় পেয়ে যাচ্ছে। আর এতে তারা আরও বড় অপরাধ করতে সাহস পেয়ে যাচ্ছে। মুসলমানরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকতো, তবে কোনো অপশক্তির পক্ষে মুসলিম নারীর গায়ে হাত তোলা সম্ভব হতো না।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশে অধ্যাপক ড. ছিদ্দিকুর রহমান আশ্রাফী বলেন, একটি মুসলিম রাষ্ট্রে ধর্ষণের মতো ঘটনা অগ্রহণযোগ্য। সমাজে নৈতিক অবক্ষয়ের কারণে এসব অপরাধ ঘটছে। ইসলামী পর্দা ও শালীনতা রক্ষা করা প্রতিটি মুসলিম নারীর জন্য ফরজ ইবাদত।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের তাওহিদী জনতা আজ যে প্রতিবাদে ফেটে পড়েছে, তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়া উচিত।
উল্লেখ্য, গতকাল রাতে ধর্ষণের শিকার ওই মাদ্রাসা ছাত্রীর কান্নাজড়িত একটি ভিডিয়ো ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে নেটিজেনরা। জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীর বয়স আনুমানিক ১৩ বছর।
দুই মাস আগে এই ভাড়া বাসা থেকে প্রতিবেশী সঞ্জিত বর্মণ ও তার শ্যালক লোকনাথ চন্দ্র দাসের সহযোগিতায় লোকনাথের ভাগিনা জয় কুমার দাস মেয়েটিকে কৌশলে অপহরণ করে লোকনাথের ভাড়া বাসায় নিয়ে যায় এবং জোরপূর্বক লাগাতার তিনদিন ধর্ষণ ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করে।