জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সকাল থেকেই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে পুলিশি বাধা অতিক্রম করে শতাধিক ‘জুলাই যোদ্ধা’ দেয়াল টপকে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করে অতিথিদের জন্য বরাদ্দকৃত আসনে বসে পড়েন।
স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি বিকেল ৪টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, এর আগে থেকেই ‘জুলাই যোদ্ধারা’ তাদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে অবস্থান নেন। তারা স্লোগান দিতে থাকেন—জুলাই সনদে জুলাই যোদ্ধাদের স্বীকৃতি দিতে হবে, শহীদ ও আহতদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে, এবং তাদের সুরক্ষা ও দায়মুক্তি আইনি ভাবে সংরক্ষিত করতে হবে।
ঘটনার পরপরই জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশ কর্মকর্তারা এবং প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে এসে ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ সঙ্গে কথা বলেন এবং শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগের আহ্বান জানান। মঞ্চ থেকে মাইকে ক্রমাগত ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে, যেন তারা শান্ত থাকে এবং অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা যায়।
এদিকে, রাষ্ট্রীয় সংস্কারের উদ্দেশ্যে গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল গত ১৫ ফেব্রুয়ারি। রক্তক্ষয়ী জুলাই অভ্যুত্থানের পর গঠিত এই কমিশন প্রথম পর্যায়ে ৩২টি দল ও জোটের সঙ্গে ৪৪টি বৈঠক করে ১৬৬টি সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে ৬২টিতে ঐকমত্যে পৌঁছায়। দ্বিতীয় দফায় সংবিধান সংশোধন সংশ্লিষ্ট ১৯টি মৌলিক সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়, যার মধ্যে ১০টিতে ভিন্নমত (নোট অব ডিসেন্ট) দেওয়া হয়েছে।
জুলাই জাতীয় সনদে অন্তর্ভুক্ত মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে ৪৭টি সংবিধান সংশোধন সাপেক্ষে এবং বাকি ৩৭টি আইন, বিধি বা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়নযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ৪০ পৃষ্ঠার এই ঐতিহাসিক সনদে প্রতিটি সংস্কারের বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া উল্লেখ করা হয়েছে।
সনদে বলা হয়েছে, ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত যেসব প্রস্তাব তাৎক্ষণিকভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব, অন্তর্বর্তী সরকার তা বিলম্ব ছাড়াই বাস্তবায়ন করবে। তবে স্বাক্ষরের আগে কিছু দল—বিশেষ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)—খসড়া বাস্তবায়ন আদেশ প্রকাশের দাবি জানিয়েছে। তাদের অবস্থান, এই দাবি পূরণ না হলে তারা সনদে স্বাক্ষর করবে না।
জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণে আজকের এই ঘটনাকে ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এটি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় এক নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনার সূচনা।