ইসলামাবাদ থেকে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, পাকিস্তানের অর্থনৈতিক কেন্দ্র সিন্ধু প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সৈয়দ মুরাদ আলী শাহ ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেছেন, দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করলে সহজেই এক হাজার কোটি ডলারের বাণিজ্য লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
বৃহস্পতিবার করাচিতে নবনিযুক্ত ইরানি কনসাল জেনারেল আকবর আইসাজাদেহর সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ইরান একটি ভ্রাতৃপ্রতিম মুসলিম রাষ্ট্র, যার সঙ্গে পাকিস্তান বিশেষ করে সিন্ধু প্রদেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের ও গভীর ঐতিহাসিক ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে।”
তিনি বলেন, “দুই দেশের বর্তমান সম্পর্ক সন্তোষজনক হলেও আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া দরকার, বিশেষ করে বাণিজ্য ও বিনিয়োগে। আমি নিশ্চিত, আপনার মেয়াদকালে সিন্ধু ও ইরানের প্রদেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।”
মুরাদ আলী শাহ ইরানের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার প্রতি প্রাদেশিক সরকারের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি জানিয়ে বলেন, “খুব শিগগির প্রাদেশিক মন্ত্রিসভা ইরানের কনসাল জেনারেলের সঙ্গে বৈঠক করবে। সেখানে পারস্পরিক উন্নয়নের জন্য নতুন কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করা হবে।”
বৈঠকে করাচি থেকে তেহরান পর্যন্ত সরাসরি বিমান চলাচল শুরুর বিষয়েও আলোচনা হয়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই রুট চালু হলে ধর্মীয় পর্যটন বাড়বে এবং বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলো নতুন ফ্লাইট চালু করতে উৎসাহিত হবে।”
সিন্ধু মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, বৈঠকে ইরানের কনসাল জেনারেল পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূতের পক্ষ থেকে মুরাদ আলী শাহকে ইরান সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। মুখ্যমন্ত্রীও আমন্ত্রণ গ্রহণ করে জানান, তিনি শিগগিরই ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান সফর করবেন।
উভয় পক্ষ করাচি ও তেহরানের মধ্যে বাণিজ্যিক সহযোগিতা ৫০০ কোটি ডলার থেকে এক হাজার কোটি ডলারে উন্নীত করার বিষয়ে একমত হন। পাশাপাশি বাণিজ্য সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে দুই দেশের যৌথ বাণিজ্য মেলা আয়োজনের প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়, যা পারস্পরিক শিল্প ও বিনিয়োগ সুযোগ প্রদর্শনে ভূমিকা রাখবে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?