রোকুনুজ্জামান, জবি প্রতিনিধি
পর্যাপ্ত হল না থাকায় আবসন সংকট নিয়ে শিক্ষার্থীদের কষ্ট লাঘব করতে লং মার্চ টু যমুনা আন্দোলনের মাধ্যমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা বিশেষ বৃত্তি অর্থাৎ আবাসন বৃত্তি আদায় করেন। কিন্তু ৭০% শিক্ষার্থী এই বৃত্তি পাবেন বলে কোন শিক্ষার্থীরা কোন কোন মানদন্ডে এই বৃত্তি পাবেন তা নিয়ে তৈরা হয়েছে ধোঁয়াশা।
১৬ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) জবি প্রক্টর এবং অর্থ ও হিসাব দপ্তরের পরিচালক ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকারে দৈনিক সকালের প্রতিনিধিকে এসব বিষয় সম্পর্কে অবগত করেন।
১৫ ব্যাচ বিশেষ প্রপ্তীর ক্ষেত্রে বিবেচিত হবে কি না তা নিয়ে অর্থ ও হিসাব দপ্তরের পরিচালক এবং বিশেষ বৃত্তি প্রদানের লক্ষ্যে গঠিত কমিটির সদস্য সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. শেখ রফিকুল ইসলাম বলেন, “২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ অর্থাৎ ১৫ ব্যাচের শিক্ষার্থীরাও বিবেচিত হবেন তবে ১৬ থেকে ২০ ব্যাচ অগ্রাধিকার পাবে।”
হলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রপ্তি নিয়ে তিনি বলেন, “আমরা চাই প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে বৃত্তি প্রদান করতে। ফলে যারা হলে আছেন তারা যেহেতু ইতোমধ্যেই একটি সুবিধা পাচ্ছেন তাই তাদের চেয়ে যারা প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে এসে এখানে থাকছেন এবং অর্থনৈতিক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে আমরা তাদের প্রাধান্য দিবো। তবে আসসুন্নাহতেও যেহেতু নির্দিষ্ট একটি মাসিক বেতন দিতে হয় তাই সেটাও আমরা বিবেচনায় রেখে তালিকা চূড়ান্ত করবো।”
যেসব শিক্ষার্থীর বাবা মায়ের মধ্যে উপার্জনক্ষম ব্যক্তি মারা গেছেন এবং অভিভাবক হিসেবে থাকা (যেমন: মা গৃহকর্মী হলে) ব্যক্তির উপার্জন না থাকলে তাদের আয়ের সনদ কিভাবে সংগ্রহ করবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এই সমস্যাটি ছাড়াও আরও কিছু সমস্যা আমরা ফাইন্ড আউট করেছে বা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পেয়েছি। আমি সব নোট ডাউন করে রাখছি। সেরকম হলে আমরা বিষয়গুলো আমলে নিয়ে খুব দ্রুতই নতুন একটি নতুন নির্দেশনা প্রদান করবো।”
সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন জায়গায় বিশেষ বৃত্তি (আবাসন বৃত্তি) কে মেধাবৃত্তি আখ্যায়িত করে সমালোচনার বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড.মোহাম্মদ তাজাম্মুল হক বলেন, “আমরা সেখানে অনেক তথ্যই নিচ্ছি তার মানে এই না যে সব তথ্যকেই আমরা সমান প্রাধান্য দিবো। প্রথমে অমরা অর্থনৈতিকভাবে যারা অসচ্ছল তাদেরকেই প্রাধান্য দিবো, কিন্তু কোনো ক্ষেত্রে একাধিক শিক্ষার্থী অর্থনৈতিক অবস্থা একই হলে তখন আমরা মেধার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করবো।”
বিভিন্ন মেস ও বাসার রশীদ নিয়ে জটিলতার বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা ইতোমধ্যেই এই সমস্যাটি সম্পর্কে অবগত আছি। এক্ষেত্রে ঐসব শিক্ষার্থীরা একটি কমন রশীদ সংগ্রহ করে সকল তথ্য যথাযথভাবে পূরণ করে বাসা বা মেস মালিকের স্বাক্ষর সংগ্রহ করবেন।”