রাশিমুল হক রিমন, বরগুনা
ভাবি তানিয়াকে জবাই করে হত্যার ১০ বছর পর এবার ছয় বছরের শিশু ভাতিজি নাবিল ওরফে তাননুর আক্তারকে পিটিয়ে হত্যা করেছে চাচা হাবিব ওরফে হাবিল খান (২৭)। ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘাতক হাবিলকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বরগুনার তালতলী উপজেলার ইদুপাড়া গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তালতলীর ইদুপাড়া গ্রামের দুলাল খানের মেয়ে তাননুর আক্তার দুপুরে স্কুল থেকে ফিরে বাড়ির সামনের দোকানে বিস্কুট কিনতে যায়। এসময় চাচা হাবিল খান পিছন দিক থেকে গড়ান কাঠের লাঠি দিয়ে শিশুটির মাথা ও হাতে আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
সেখানে চিকিৎসক ডা. রকিবুল ইসলাম তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পথে শিশুটি মারা যায়।
ঘটনার পর স্থানীয়রা হাবিলকে ধাওয়া করে এবং সে একটি বাড়িতে আশ্রয় নেয়। পরে পুলিশ এসে তাকে গ্রেপ্তার করে।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের আগস্টে হাবিল তার বড় ভাই দুলাল খানের প্রথম স্ত্রী তানিয়া বেগমকে জবাই করে হত্যা করেছিল। শিশু আইন অনুযায়ী ওই মামলায় তার ৯ বছরের সাজা হয়। সাজা ভোগ শেষে ২০২৪ সালের শুরুতে জামিনে মুক্তি পায়। জামিনে মুক্তির এক বছরের মাথায় আবারও হত্যাকাণ্ড ঘটায় সে।
নিহত শিশুটির বাবা দুলাল খান বলেন, ও আমার জীবনটা শেষ করে দিয়েছে। ২০১৫ সালে আমার প্রথম স্ত্রীকে জবাই করে হত্যা করেছিল। এবার আমার ছোট মেয়েকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। আমার মেয়েটি কি অপরাধ করেছিল? আমি ওর ফাঁসি চাই।
প্রত্যক্ষদর্শী রানা হাওলাদার জানান, শিশুটি দোকানে যাওয়ার পথে হাবিল পিছন দিক থেকে লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে। ঘটনাস্থলেই মেয়েটি লুটিয়ে পড়ে।
ইউপি সদস্য মো. টুকু সিকদার ও সাবেক ইউপি সদস্য সালাম হাওলাদার জানান, ঘটনার পর স্থানীয়রা হাবিলকে ধাওয়া করে। পরে পুলিশ এসে তাকে আটক করে।
তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. রকিবুল ইসলাম বলেন,
শিশুটির মাথা ও হাতে গুরুতর আঘাত ছিল। তাকে বরিশালে পাঠানো হয়, কিন্তু পথে মারা যায়।
তালতলী থানার ওসি মোহাম্মদ শাহজালাল বলেন,
ঘাতক হাবিলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শিশুটির মরদেহ থানায় রাখা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য বুধবার বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে। হত্যার কারণ এখনও জানা যায়নি।
নিহতের বাবা দুলাল খান বাদী হয়ে তালতলী থানায় হাবিল খানের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।