দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত আধুনিক যুদ্ধবিমান ও আক্রমণাত্মক হেলিকপ্টারের ঘাটতি দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ও অপারেশনাল সক্ষমতায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এই সংকট দূর করতে অন্তর্বর্তী সরকার বিমানবাহিনী আধুনিকায়নে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে
সূত্রের খবর অনুযায়ী ইতালি থেকে ইউরোফাইটার টাইফুন, চাইনিজ জে-১০সি, পাকিস্তানের জে এফ-১৭ এবং তুরস্কের টি-১২৯ অ্যাটাক হেলিকপ্টার ক্রয়ের পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। মোঃ রবিউল আলম, ঢাকা থেকে জানান—গঠিত আন্তমন্ত্রণালয় কমিটি দ্রুত বিকল্প যাচাই করে ২০২৫–২৬ অর্থবছরের মধ্যে ক্রয়চুক্তি সম্পন্নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
সূত্র জানান, পরিকল্পনা অনুসারে ইতালি থেকে ১০টি ইউরোফাইটার, তুরস্ক থেকে ৬টি টি-১২৯ হেলিকপ্টার আনার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। চীনের সঙ্গে জে-১০সি নিয়ে আলোচনার অংশ হিসেবে ২০টি প্লেন সম্পর্কিত প্রস্তাব জমা পড়েছিল, এবং পাকিস্তান থেকে ১৬টি জে এফ-১৭ কেনার খরচ হিসেবে প্রায় ৭২০ মিলিয়ন ডলার ধরা হয়েছে। ক্রয়প্রক্রিয়া সরকার-টু-গভর্নমেন্ট (G2G) পদ্ধতিতে হবে; চুক্তিতে থাকবে হেপিসন, প্রশিক্ষণ, খুচরা অংশ ও রক্ষণাবেক্ষণের শর্তাবলি।
বিমান সদর এক এয়ার ভাইস মার্শালকে সভাপতি করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগসমূহের প্রতিনিধিদের নিয়ে ১২ সদস্যের যৌথ কমিটি গঠন করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। কমিটি দরকষাকষি, চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারণ ও অর্থপরিশোধ পদ্ধতি নির্ধারণ করবে।
বিমানবাহিনীর সাবেক সহকারী প্রধান এয়ার কমোডর (অব.) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “প্লেন ও হেলিকপ্টার কেনা হচ্ছে বলেই আধুনিকায়ন শুরু হবে; সঙ্গে সার্ভেইল্যান্স, কমিউনিকেশন ও প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ জোর দিতে হবে।”
বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ও অঞ্চলে স্থিতিশীলতা রক্ষায় তা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে — তবে স্বচ্ছতা, অর্থায়ন ও দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা সফলতার চাবিকাঠি।
বিষয়টি নিয়ে সরকার ও সরকারের প্রতিনিধিরা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেননি; চূড়ান্ত চুক্তি ও সময়সূচি সম্পর্কে পরবর্তী দরকষাকষি ও বৈঠকে চূড়ান্ত তথ্য জানা যাবে।