দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন জানিয়েছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, “ইন্টারপোলসহ সব আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে আলোচনা চলছে। আমাদের লক্ষ্য একটাই—তাকে যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফিরিয়ে আনা।”
মঙ্গলবার দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দুদক চেয়ারম্যান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, “দুদক ইতোমধ্যেই প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও প্রমাণাদি সংগ্রহ করেছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ইন্টারপোলের মাধ্যমে লাল নোটিশ জারির প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমেই আমরা এ প্রক্রিয়াকে দ্রুত এগিয়ে নিতে চাই।”
ড. মোমেন আরও বলেন, “যেসব দেশে শেখ হাসিনা অবস্থান করতে পারেন, সেসব দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে আমাদের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ চলছে। আমরা চাই, ন্যায়বিচারের স্বার্থে তিনি নিজে দেশে ফিরে আদালতের মুখোমুখি হোন। দেশের জনগণ জানতে চায়, রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটপাট, অর্থপাচার, ক্ষমতার অপব্যবহার—এসব অভিযোগের জবাব কী।”
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, “আমরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়, বরং আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই বিষয়টি এগিয়ে নিচ্ছি। আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার কাঠামো মেনে এই প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “দুদক এখন দুর্নীতিবিরোধী জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। দেশে যারা দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছে বা বিদেশে পালিয়ে গেছে, তারা কেউই আইনের হাত থেকে রেহাই পাবে না।”
দুদক চেয়ারম্যানের এই বক্তব্যে রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে মনে করছেন, শেখ হাসিনাকে ফেরানো হলে চলমান দুর্নীতি তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া নতুন মোড় নিতে পারে।