রাজধানীর নীলক্ষেত ও নিউমার্কেট এলাকায় মধ্যরাতে ঢাবি ও ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। রাতভর ইট-পাটকেল ছোড়াছুড়িতে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পুরো এলাকা, আর এই ঘটনায় সাংবাদিকসহ একাধিক ব্যক্তি আহত হন।
রোববার দিবাগত রাতেই ঘটনাটি ঘটে বলে জানা গেছে। সংঘর্ষের সময় আতঙ্কে আশপাশের দোকানপাট ও রাস্তায় থাকা সাধারণ মানুষ ছুটোছুটি শুরু করে। স্থানীয়রা জানান, মধ্যরাত থেকে একটানা প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে নীলক্ষেত মোড় ও নিউমার্কেট এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েমসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্রনেতারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। এদিকে নীলক্ষেত ও নিউমার্কেট এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশের উপস্থিতির পর সংঘর্ষ কিছুটা স্তিমিত হলেও এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিউমার্কেট জোনের সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন,
“ঢাবির শাহনেওয়াজ হলের সামনে ফুটপাতে দোকান বসানোকে কেন্দ্র করেই মূলত উত্তেজনা শুরু হয়। পরে তা দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় রূপ নেয়। আমরা দ্রুত উভয় পক্ষকে সরিয়ে দিই এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেই।”
তিনি আরও বলেন,
“বর্তমানে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন আছে। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে, তবে আমরা সতর্ক আছি যাতে নতুন করে কোনো উত্তেজনা সৃষ্টি না হয়।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে হঠাৎ এই সংঘর্ষে আবারও প্রশ্ন উঠেছে রাজধানীতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক ও ছাত্র রাজনীতির দিক নিয়ে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এমন অপ্রত্যাশিত সংঘর্ষ প্রশাসনিক তদারকির অভাব এবং দীর্ঘদিন ধরে দমনমূলক পরিবেশের ফলাফল, যেখানে ক্ষুদ্র একটি বিরোধই বড় আকার ধারণ করছে।