চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনকে সামনে রেখে নেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নির্বাচনের দিন পুরো ক্যাম্পাসে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হবে, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়। প্রয়োজনে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সেনাবাহিনী তিন মিনিটের মধ্যে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে প্রস্তুত থাকবে।
রোববার (১২ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় প্রশাসন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ইয়াহ্ইয়া আখতার, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক শামীম উদ্দিন খান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক কামাল উদ্দিন, প্রক্টর অধ্যাপক হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মনির উদ্দিন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মনির উদ্দিন জানান, ৩৫ বছর পর আয়োজিত এই ঐতিহাসিক চাকসু নির্বাচনে পাঁচটি ভবনের ১৫টি হলজুড়ে ৬০টি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। ভোট গ্রহণ হবে ওএমআর পদ্ধতিতে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। প্রতিটি ভবনে ডিনরা রিটার্নিং অফিসার ও বিভাগীয় চেয়ারম্যানরা প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি বলেন, ১৪ অক্টোবর থেকে বহিরাগতদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। ১৩ থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বাহিরের যানবাহন চলাচলও বন্ধ থাকবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, নির্বাচনের দিন প্রতিটি ভবনে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্বে থাকবেন। পাশাপাশি চারজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হবে। ক্যাম্পাসে প্রবেশের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাদের পরিচয়পত্র প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
উপাচার্য অধ্যাপক ইয়াহ্ইয়া আখতার বলেন, “প্রায় ৩৫ বছর পর আমরা চাকসু নির্বাচন আয়োজন করছি— এটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে একটি মাইলফলক। নির্বাচনের স্বচ্ছতা, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।”