নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সংরক্ষিত প্রতীকের তালিকা থেকে কোনো প্রতীক গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বরং দলটি কমিশনের কাছে ‘শাপলা’ প্রতীক যুক্ত করে নির্বাচন পরিচালনা বিধি সংশোধনের দাবি জানিয়েছে।
মঙ্গলবার এনসিপির পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি নির্বাচন কমিশনের সচিবের কাছে ইমেইলের মাধ্যমে পাঠানো হয়। দলটি জানায়, “শাপলা প্রতীক অন্তর্ভুক্ত না হলে আমরা কোনো বিকল্প প্রতীক গ্রহণ করব না।”
ইসির সূত্রে জানা গেছে, কমিশন ইতোমধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে ‘শাপলা’ প্রতীক কোনো রাজনৈতিক দলকে বরাদ্দ দেওয়া যাবে না, কারণ এটি বর্তমান নির্বাচন পরিচালনা বিধির প্রতীক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নয়। নিবন্ধিত দল হলেও বিধি অনুসারে এনসিপিকে শাপলা প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া যাচ্ছে না বলে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এর আগে ৩০ সেপ্টেম্বর এনসিপিকে প্রতীক বাছাইয়ের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেয় ইসি, যেখানে দলটিকে এক সপ্তাহের মধ্যে পছন্দের প্রতীক বেছে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ প্রসঙ্গে এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম মুসা গণমাধ্যমকে বলেন, “আমরা ইসির চিঠিতে দেওয়া প্রতীকগুলোর কোনোটি গ্রহণ করিনি। আমাদের প্রতীক হবে শাপলা। এ বিষয়ে প্রতীক তালিকা সংশোধনের জন্য অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। শাপলা প্রতীক অন্তর্ভুক্ত হলে নমুনা থেকে বাছাই করা হবে।”
ইসির কাছে পাঠানো চিঠিতে এনসিপি শাপলার সাতটি নমুনা ডিজাইন সংযুক্ত করেছে। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শাপলা প্রতীক দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, পবিত্রতা ও শান্তির প্রতীক হিসেবে জনগণের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত, তাই এটি তাদের দলীয় প্রতীক হিসেবে অনুমোদনের জন্য যথাযথভাবে আবেদন করা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপির এই অবস্থান আসন্ন নির্বাচনে দলের স্বকীয়তা বজায় রাখার কৌশল হিসেবেই দেখা হচ্ছে। কারণ শাপলা প্রতীকটি বিগত আন্দোলন-সংগ্রামের সময় থেকেই দলের জনসংযোগ প্রচারণায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে।