ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার পতনের পর প্রশাসনে দেখা দেয় অস্থিরতা। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী সরকারের ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তারা কিছুদিন নীরব থাকলেও, ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট জনপ্রশাসন সচিব হিসেবে মোখলেস উর রহমান নিয়োগ পাওয়ার পর প্রশাসনে পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠেন আওয়ামীপন্থি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তার নেতৃত্বে গড়ে ওঠে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী—পরবর্তীতে পরিচিতি পায় ‘মোখলেস সিন্ডিকেট’ নামে।
এই সিন্ডিকেট সচিবালয় ও মাঠ প্রশাসনের নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি এবং বিশেষ দায়িত্ব বণ্টনে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক আনুগত্যের পাশাপাশি বৃহৎ আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমেও শত শত কর্মকর্তা গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়। ফলে প্রশাসনের ভেতরে আওয়ামী পুনর্বাসনের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মোখলেস উর রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর এক বছরের মধ্যে সচিব ও সিনিয়র সচিব পদে ৭২টি পোস্টিং অর্ডার দেন, যার মধ্যে ২৫টি নিয়েই বিতর্ক তৈরি হয়। অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব ও উপসচিব পর্যায়ের শত শত নিয়োগে অর্থ লেনদেন ও দলীয় প্রভাবের অভিযোগ ওঠে। অনেক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক পরিচয় না থাকায় তারা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাটি ছিল জেলা প্রশাসক নিয়োগে ঘুষ কেলেঙ্কারি। অভিযোগ ওঠে, একজন ডিসি পদে বসতে ৫ থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়েছে। তদন্তে তিন উপদেষ্টার নেতৃত্বে কমিটি গঠন করা হলেও এখনো ফলাফল প্রকাশ হয়নি। ওই ঘটনায় জনপ্রশাসনের এক যুগ্ম সচিবের কক্ষ থেকে কোটি টাকার চেকও উদ্ধার করা হয়।
মোখলেস সিন্ডিকেটে জড়িতদের মধ্যে ছিলেন যুগ্ম সচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ ও কে এম আলী আজম, যারা প্রশাসনের নিয়োগ ও বদলিতে প্রভাব বিস্তার করতেন। নিরাপত্তা সংস্থার সূত্রে জানা গেছে, এ সিন্ডিকেটের সদস্যদের তথ্য সংগ্রহ চলছে, এবং যারা অর্থের বিনিময়ে পদ পেয়েছেন তাদের বিরুদ্ধেও তদন্ত শুরু হয়েছে।
বিএনপির চেয়ারপারসনের সাবেক সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার বলেন, “মোখলেস সিন্ডিকেটের সময় প্রশাসন কার্যত বিশৃঙ্খলায় নিমজ্জিত ছিল। অনিয়ম ও দলীয়করণের অভিযোগ ব্যাপক ছিল। সরকারকে এসব অনিয়ম তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।”