নাজমুল হক চৌধুরী, নরসিংদী
নরসিংদীর সেই আলোচিত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামিম আনোয়ার চাঁদাবাজদের হামলায় আহত হয়েছেন। শনিবার (০৪ অক্টোবর) দুপুরে নরসিংদী পৌর শহরের আরশীনগর রেলক্রসিং এলাকায় ২ জন চাঁদাবাজ কে আটক করলে ৩০/৪০ জনের একটি এই হামলার ঘটনা ঘটায়।
এই হামলায় তার মাথায় আঘাত প্রাপ্ত হন। বর্তমানে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। নরসিংদী সদর সার্কেল এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামিম আনোয়ার চাঁদাবাজদের আতংক হিসেবে কিছুদিন পুর্বে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, নিয়মিত টহলের সময় শহরের আরশীনগর এলাকায় পৌছালে দুই জন চাঁদাবাজকে অটো থেকে চাঁদা তুলতে দেখে তিনি তাদের আটক করেন। ঐসময় তাদের জিজ্ঞাসাবাদের সময় প্রায় ৩০/৪০ জনের একটি দল শামিম আনোয়ারের উপর হামলা চালিয়ে আটক দুই চাঁদাবাজ কে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এসময় হামলায় তিনি রাস্তায় পরে প্রায় ১০ মিনিট অজ্ঞান ছিলেন, সাথে সাথে স্থানীয়রা ও উপস্থিত পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামিম আনোয়ার সাংবাদিকদের জানান, নিয়মিত কার্যক্রম হিসেবে আমি ফোর্স সহ শহর প্রদক্ষিন করছিলাম। আরশীনগর মোড়ের ত্রিশ চল্লিশ গজ সামনে পৌছালে দেখতে পাই কয়েকজন চলন্ত গাড়ি থেকে চাঁদা তুলছে। এটা দেখে তাদের কাছে গিয়ে আমি জিজ্ঞেস করি এটাত হাইকোর্টের আদেশ ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সম্পুর্ন নিষেধ। আপনারা এভাবে গরীব রিকশাওয়ালা, আটোওয়ালাদের সারাদিনের কষ্টার্জিত টাকা নিতে পারেন না, যেটা সম্পুর্ন অবৈধ।
আমি মুলত তাদের মোটিভেট করতে, তাদের বোঝানোর চেষ্টা করি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছিলাম, তখনই ত্রিশ চল্লিশ জনের একটি দল এসে এখানে সিনক্রেট করে, তাদের নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। আমি যেহেতু তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করতেছিলাম, তাদের কে নিয়ে যেতে বাধা দেই। পরে তারা আমার হামলা চালায়৷ প্রথমে আমাকে ঘুষি মারে, তারপর লাথি দিয়ে ফেলে দেয় এবং পায়ের মোরা দিয়ে মাথায় আঘাত করে। আমি পরে গিয়ে মাথায় আঘাত পেয়ে প্রায় ১০ মিনিট অজ্ঞান ছিলাম। স্থানীয় ও উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, তবে পুর্ব শত্রুতার জের ধরে আমাকে হামলা করা হয়ে থাকতে পারে। আমি পুর্বে ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে একশন নিয়েছি। ঐখানে আমার উপর আঘাত করার মত পরিস্থিতি ছিলনা, আমি শুধু জিজ্ঞাসাবাদ করছিলাম। কিন্ত তারা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরী করে হামলা চালায়। যারা হামলা চালিয়েছে তারা ইজারাদারের লোক হতে পারে।
ইজারাদার মো: আলমগীর হোসেন বলেন, পুলিশ সুপারের হামলার বিষয়ে আমি কিছুই জানেননা। ২৫ লাখ টাকা দিয়ে পৌরসভার ইয়াজারা নিয়েছি বৈধভাবে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামিম আনোয়ার আমাদের বাধা দেয় ইজারা তুলতে। কিছুদিন আগেও দুইজন কে ধরে নিয়ে গেছে। ইজারা তুলতে বাধা দিলে বলেন আমাদের ২৫ লাখ ফেরত দিয়ে দিতে।