বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

অন্যান্য খবর

সংবিধান তো কচু পাতার পানি নয় যে বলে দিলেই পরিবর্তন হয়ে যাবে : সালাহউদ্দিন

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সাংবিধানিক প্রক্রিয়া ছাড়া বাংলাদেশের সংবিধান পরিবর্তন করার অধিকার কারও নেই। আজ শনিবার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। ৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে গণতান্ত্রিক উত্তরণে করণীয়’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক […]

সংবিধান তো কচু পাতার পানি নয় যে বলে দিলেই পরিবর্তন হয়ে যাবে : সালাহউদ্দিন

ছবি : সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ অক্টোবর ২০২৫, ১৮:০০

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সাংবিধানিক প্রক্রিয়া ছাড়া বাংলাদেশের সংবিধান পরিবর্তন করার অধিকার কারও নেই। আজ শনিবার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে গণতান্ত্রিক উত্তরণে করণীয়’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি)।

জুলাই সনদ ও সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতি (পিআর) বিষয়ে চলমান বির্তক নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘রাষ্ট্র কোনো ছেলেখেলা নয়। ১৮ কোটি মানুষের ভাগ্য নিয়ে আমরা ছিনিমিনি খেলতে পারি না।’

সালাহউদ্দিন বলেন, ‘এই রাষ্ট্রকে একটা নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে চলতে দিতে হবে। কোনো রাজনৈতিক দলের অভিসন্ধির কাছে আমরা কোনো দিন মাথা নত করতে পারি না। জনগণই হচ্ছে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার মালিক। আসুন আমরা তাদের কাছে যাই।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘যেকোনো একটা আইনানুগ বৈধ এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়া ছাড়া বাংলাদেশের সংবিধানকে পরিবর্তন করার কোনো অধিকার আমাদের কারও নেই। তাহলে এমন একটি পরিস্থিতির নজির সৃষ্টি হবে, যে নজিরটা আগামী দুই বছর পরে, পাঁচ বছর পরে বারবার কোনো না কোনো দাবির মুখে পড়বে যে এইভাবে এই প্রক্রিয়ায় আবার সংবিধান পরিবর্তন করেন।’

জুলাই সনদ সম্পর্কে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘আমরা বলেছি নির্বাচনের দিনে একই দিনে আরেকটা ব্যালটের মাধ্যমে গণভোটের সেই রায়টা নেওয়া যাবে যে এই সংস্কারের মধ্যে ঐকমত্য কমিশনের কাছে আমরা যারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছি, সকল রাজনৈতিক দল সেই প্রতিশ্রুতির পক্ষে জনগণ আছে কি না, সেই সনদের পক্ষে জনগণ আছে কি না—হ্যাঁ অথবা না বলুন।

যদি জনগণ হ্যাঁ বলে, তাহলে সেই পার্লামেন্ট সেই নির্বাচিত সংসদের প্রত্যেকটা সংসদ সদস্য আইনানুগভাবে ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত হবেন, এই সনদ বাস্তবায়নের জন্য। আমরা সেই প্রক্রিয়ার কথা বলেছি। কিন্তু না, তাদের কথাই মানতে হবে যে সাংবিধানিক আদেশের মধ্য দিয়ে অবৈধভাবে এই ঘোষণা নাকি এখনই জারি করতে হবে, উইথ ইমিডিয়েট এফেক্ট যে আজকে থেকে কার্যকর হলো ধরে নিয়ে।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘সংবিধান তো কোনো কচুপাতার পানি নয় যে যা খুশি, যেভাবে খুশি সেভাবে আমরা বলে দিলেই পরিবর্তন হবে।’

এ সময় পিআরের দাবি প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘যারা আজকে পিআর-পিআর করছে তাদের উদ্দেশে শুধু বলি, যে কয়টা রাজনৈতিক দল নিয়ে আপনারা মাঠে এ সমস্ত বক্তব্য দিচ্ছেন তারা কারা? তাদের ’২৪ (২০২৪) সালের ৭ জানুয়ারিতে কী ভূমিকা ছিল?

আমরা জানি, আপনাদের অন্তর্ভুক্ত একটি রাজনৈতিক দল নাম নেব না… আপনারা নাম খুঁজে বের করবেন… তারা ৭ জানুয়ারির ‘‘আমি-ডামি’’ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে, তারা আপনাদের দোসর হয় কীভাবে আন্দোলনে?’ ’

আন্দোলনরত দলগুলোর উদ্দেশে সালাহউদ্দিন আরও বলেন, ‘আমরা মনে করি, জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য আপনাদের কোনো আন্দোলন করা সঠিক হবে না বাংলাদেশের এই গণতান্ত্রিক আবহের মধ্যে। আমরা চাই ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য অটুট থাকুক, আমাদের সবার চাওয়া উচিত ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্যকে আমরা সমুন্নত রেখে এটাকে শক্তিতে পরিণত করে চিরতরের জন্য ফ্যাসিবাদী শক্তিকে আমরা নির্বাসনে দিই।’

সালাহউদ্দিন বলেন, ‘যে সমস্ত রাজনৈতিক দল নিজস্ব রাজনৈতিক স্বার্থে জাতীয় স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিচ্ছে; দেশের স্বার্থকে, জনগণের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিচ্ছে হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে। তাদের বলব, আপনারা বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থে সঠিক রাস্তায় ফেরত আসুন। জনগণকে বিভ্রান্ত করবেন না।’

এনডিপির সভাপতি আবদুল্লাহ আল হারুনের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব জামিল আহমেদের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় ন্যাশনাল পিপলস পার্টির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, গণদলের এ টি এম গোলাম মাওলা চৌধুরী, সাম্যবাদী দলের সৈয়দ নুরুল ইসলাম, গণঅধিকার পরিষদের রাশেদ খান, ডেমোক্রেটিক লীগের খোকন চন্দ্র দাস, জনতার অধিকার পার্টির তরিকুল ইসলাম, ন্যাপের আবদুল বারেক, এনডিপির আওলাদ হোসেন প্রমুখ বক্তব্য দেন।

অন্যান্য খবর

ভারতে পালিয়ে সেলফি পাঠিয়েছেন হাদির ওপর হামলাকারী: সায়ের

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করা ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান ভারতে পালিয়ে গেছেন বলে আগেই দাবি করেছেন আল জাজিরার প্রবাসী বাংলাদেশি সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের। এবার আরেক দাবি করলেন তিনি। রোববার (১৪ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, ভারতে পালিয়ে সেলফি পাঠিয়েছেন […]

ভারতে পালিয়ে সেলফি পাঠিয়েছেন হাদির ওপর হামলাকারী: সায়ের

ভারতে পালিয়ে সেলফি পাঠিয়েছেন হাদির ওপর হামলাকারী: সায়ের

নিউজ ডেস্ক

১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৩৭

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করা ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান ভারতে পালিয়ে গেছেন বলে আগেই দাবি করেছেন আল জাজিরার প্রবাসী বাংলাদেশি সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের। এবার আরেক দাবি করলেন তিনি।

রোববার (১৪ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, ভারতে পালিয়ে সেলফি পাঠিয়েছেন হাদির ওপর হামলাকারী ফয়সাল করিম মাসুদ।

সায়ের লেখেন, ‘ইনকিলাব মঞ্চের সংগঠক ওসমান হাদিকে হত্যার উদ্দেশ্য গুলি করার ঘটনার সাথে জড়িত শ‍্যুটার সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান এবং তার সহযোগী মোটরবাইক চালক আলমগীর হোসেন গতকাল সন্ধ্যায় (১২ ডিসেম্বর) ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে প্রবেশ করার পর জাহাঙ্গীর কবির নানকের পিএস মো. মাসুদুর রহমান বিপ্লব, ফয়সাল করিম মাসুদকে এই ভারতীয় নম্বরটি জোগাড় করে দেন বলে বিশেষ গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়।’

পোস্টে তিনি একটি নাম্বারও যোগ করেন (+৯১৬০০১৩৯৪০**)। তিনি লেখেন, ‘এই নম্বরটি ব্যবহার করে গতকাল রাতে কয়েকটি নম্বরে নিজেদের এই সেলফি পাঠান ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান।’

তার দাবি, ‘যে সকল নম্বরে এই ছবিটি পাঠানো হয় তার একটি ইন্টারসেপ্ট করে এই ছবিটি পাওয়া যায়, যা গতকাল ভারতের আসাম রাজ‍্যের গুয়াহাটিতে তোলা হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।’

এদিকে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, অত্যন্ত সংকটাপন্ন ওসমান হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হবে।

ওসমান হাদির চিকিৎসা সংক্রান্ত সকল ব্যয় রাষ্ট্রীয়ভাবে বহন করা হবে জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং বলেছে, তার চিকিৎসা প্রক্রিয়া সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। ওসমান হাদির দ্রুত সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া ও প্রার্থনা চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট এলাকায় শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে তিনি বর্তমানে সিসিইউতে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনার পর থেকেই সারা দেশে প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।

অন্যান্য খবর

স্বরাষ্ট উপদেষ্টার সামনেই তার পদত্যাগ দাবি করলেন সাদিক কায়েম

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির হত্যাচেষ্টার ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে এই মুহূর্তে সব তথ্য প্রকাশ করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, তদন্তের স্বার্থে কিছু বিষয় আপাতত গোপন রাখা প্রয়োজন। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে ডাকসু প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা […]

নিউজ ডেস্ক

১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬:১১

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির হত্যাচেষ্টার ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে এই মুহূর্তে সব তথ্য প্রকাশ করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, তদন্তের স্বার্থে কিছু বিষয় আপাতত গোপন রাখা প্রয়োজন।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে ডাকসু প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। এ সময় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েমসহ অন্যান্য নেতারা।

বৈঠক চলাকালে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সামনেই তার পদত্যাগ দাবি করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তিনি অভিযোগ করেন, ওসমান হাদির ওপর হামলার পরও জড়িতদের গ্রেপ্তার না হওয়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতারই প্রতিফলন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “আমাদের ছোট ভাই সাদিক কায়েমের প্রতিটি দাবি যৌক্তিক। এর আগেও আমরা আপনাদের সামনে বলেছি, এই ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে আমাদের পদক্ষেপ আরও বেগবান করতে হবে।” তিনি আশ্বস্ত করেন, ডাকসু নেতাদের উত্থাপিত দাবিগুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে এবং সেগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থার প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, “ওসমান হাদি এখন গুরুতর অসুস্থ। তিনি যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসতে পারেন—এই কামনায় আমরা সবাই দোয়া করি।”

হত্যাচেষ্টার সঙ্গে জড়িতরা বর্তমানে দেশে আছে নাকি পালিয়ে গেছে—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “সবকিছু এখনই প্রকাশ করা সম্ভব নয়।” তবে তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে।

এদিকে বৈঠক শেষে ডাকসু নেতারা জানিয়েছেন, তারা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কাছে তাদের দাবিগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে বলেও তারা হুঁশিয়ারি দেন।

অন্যান্য খবর

অনিচ্ছাকৃত ভুল বক্তব্যের জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত : রিজভী

রাজধানীর নয়াপল্টনে এক সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে ‘অনিচ্ছাকৃত ভুল’ হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ দুঃখ প্রকাশ করেন। বিবৃতিতে রুহুল কবির রিজভী বলেন, আরটিভির লোগো ব্যবহার করে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের বক্তব্য হিসেবে একটি তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল […]

নিউজ ডেস্ক

১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২:১৯

রাজধানীর নয়াপল্টনে এক সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে ‘অনিচ্ছাকৃত ভুল’ হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ দুঃখ প্রকাশ করেন।

বিবৃতিতে রুহুল কবির রিজভী বলেন, আরটিভির লোগো ব্যবহার করে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের বক্তব্য হিসেবে একটি তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। একই সঙ্গে শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন এক ব্যক্তির সঙ্গে ডাকসুর ভিপির চা খাওয়ার একটি ছবি ছড়িয়ে পড়ে। তিনি বলেন, “এই দুটি বিষয়ই ছিল ভিত্তিহীন এবং এআই জেনারেটেড।”

রিজভী আরও বলেন, ফ্যাক্ট চেক না করে এসব বিষয় নিয়ে তিনি শনিবার দুপুরে নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক সভায় বক্তব্য দেন। “এই অনিচ্ছাকৃত ভুল বক্তব্যের জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত,” বলেন তিনি।

এর আগে রুহুল কবির রিজভীর বক্তব্যকে ‘ভুয়া’ আখ্যা দেন ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী। তিনি বলেন, “আমি এমন কোনো বক্তব্য দিইনি। এগুলো বোগাস ও ভুয়া কথাবার্তা। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে একটি রিজয়েন্ডার দেওয়া হয়েছে।” ডিএমপি কমিশনার জানান, এআই দিয়ে তৈরি একটি ভুয়া ছবি ব্যবহার করে তার নাম জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে।

এদিকে ডাকসুর ভিপির সঙ্গে চা খাওয়ার প্রসঙ্গে রিজভীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন সাদিক কায়েম। পোস্টে তিনি লেখেন, আওয়ামী লীগের প্রোপাগান্ডা সেল কর্তৃক প্রচারিত এআই জেনারেটেড ছবি সত্য ধরে নিয়ে বিএনপির সিনিয়র নেতা তাকে হাদির ওপর হামলার সন্দেহভাজনের সঙ্গে জড়িয়ে অপতথ্য ছড়িয়েছেন, যা দায়িত্বশীল আচরণ নয়।

সাদিক কায়েম আরও লেখেন, এই ধরনের অপতথ্য যাচাই না করে প্রচার করা হলে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনার সক্ষমতা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়। তিনি বিএনপি ও রুহুল কবির রিজভীর কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান।

এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্য ও এআই জেনারেটেড কনটেন্ট যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।