ইসরাইলে আটক গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার অভিযাত্রীরা আমরণ অনশনে নেমেছেন। শুক্রবার আন্তর্জাতিক সংগঠন ‘টু ব্রেক দ্য সিজ অব গাজা’ এক বিবৃতিতে জানায়, অনির্দিষ্টকালের জন্য এই অনশন চলবে যতক্ষণ না আটক কর্মীদের মুক্তি দেওয়া হচ্ছে এবং গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর অনুমতি নিশ্চিত করা হচ্ছে।
সংগঠনটির দাবি, ইসরাইল ফ্লোটিলার জাহাজ আটক করার পর থেকে কয়েকজন কর্মী প্রতিবাদস্বরূপ অনশন শুরু করেছেন। তাদের ঘোষণা অনুযায়ী, এই অনশন এখন শুধু একটি প্রতিবাদ নয়, বরং বিশ্বকে জানিয়ে দেওয়া— গাজার মানুষের ওপর আরোপিত অবরোধের বিরুদ্ধে তারা শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবেন।
আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন অনুসারে, গাজামুখী গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার ৪৪টি জাহাজের মধ্যে প্রায় সবগুলোই আটক করেছে ইসরাইলি নৌবাহিনী। এ সময় ৫০টিরও বেশি দেশের প্রায় ৪৫০ জন অধিকারকর্মীকে আটক করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় অভিযান চালিয়ে ইসরাইলি বাহিনী এই জাহাজগুলো থামিয়ে দেয়, যা সরাসরি আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের লঙ্ঘন।
ফ্লোটিলা যাত্রার মূল লক্ষ্য ছিল গাজায় খাদ্য, ওষুধ এবং জরুরি মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া, একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের অবরোধ ভেঙে বিশ্বকে বার্তা দেওয়া। কিন্তু ইসরাইলের বাধার কারণে গাজার অসহায় জনগণ সেই সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরাইলি আগ্রাসনে গাজায় এখন পর্যন্ত ৬৬ হাজার ২০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশ নারী ও শিশু। জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা সতর্ক করে বলছে, চলমান হামলা ও অবরোধের কারণে গাজা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং ক্রমেই বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। খাদ্য ও ওষুধের সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে, দুর্ভিক্ষ ও রোগব্যাধি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
মানবাধিকারকর্মীদের অনশন তাই এখন শুধু বন্দিদের মুক্তির দাবি নয়, বরং গাজার মানুষের বেঁচে থাকার সংগ্রামের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?